ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৯
মৌলভীবাজারে রিকলাচালকের ছেলে সুবোধ মালাকার ও গোবিন্দগঞ্জে ভিক্ষুকের পুত্র খোকন পেয়েছে জিপিএ-৫। টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ যুগিয়ে ভাল ফল করেছে গৌরিপুরের হোসনে আরা, ব্যাংকার হবার ইচ্ছে থাকলেও উচ্চশিক্ষা নিয়ে শংকিত আদিতমারীর হাবিবুর রহমান। এছাড়া শত প্রতিকূলতা জয় করে ব্যাংকার ও একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান শিবগঞ্জের মোহাঃ আসাদুজ্জামান ও সদরুল ইসলাম । এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। মৌলভীবাজার : অদম্য ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রমে দারিদ্র্যকে জয় করে উপজেলার নলডরি গ্রামের রিকশা-চালক সুধির মালাকার ও অমিতা মালাকারের পুত্র সুবোধ মালাকার পেয়েছে জিপিএ-৫। কিন্তু দরিদ্র পিতার পক্ষে এখন আর পড়ানো সম্ভব নয়। সুবোধের ইচ্ছা পড়াশুনা শেষ করে ব্যাংকার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করা। গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) : গোবিন্দগঞ্জে ভিক্ষুকের পুত্র মেধাবী খোকন চন্দ্র অন্যের জমিতে দিন মজুরের কাজ করে, রাতে ঘরের মেঝেতে বসে কুপির আলোয় পড়াশুনা করে এই অসামান্য ফলাফল করেছে। খোকন জানায়, কখনও অনাহারে থাকলেও পড়াশুনায় কোন দিন গাফিলতি করেনি। খোকন পড়াশুনা শেষ করে ব্যাংকার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চান। উপজেলার তালুককানুপুর গ্রামের খোকনের বাবা অনিল প্যারালাইষ্ট হয়ে ডান পার্শ্ব পঙ্গু হয়ে যাওয়ার পর থেকে ভিক্ষা করে সংসার চালায়। মা সন্ধ্যা রানী সংসার দেখাশুনার পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে। খোকনের পিতা জানান, আমার পক্ষে ছেলের পড়াশুনার খরচ চালানো কষ্টকর। তাই কোন সহূদয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাহায্যের হাত বাড়ালে তার ছেলের স্বপ্ন পূরণ হওয়া সম্ভব। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) : ভূমিহীন পিতামাতার পাঁচ সন্তানসহ অভাবের সংসারে যেখানে মুখের আহার জুটে না, সেখানে লেখাপড়া করার স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হলেও টিউশনী করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে উপজেলার বায়ড়াউড়া গ্রামের হোসনে আরা। সে এবার আলিম পরীক্ষায় গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। তার পিতা শমশের আলী একজন ভূমিহীন মত্স্যজীবী ও মাতা আছিয়া খাতুন একজন গৃহিণী। ভবিষ্যতে সে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু কিভাবে সে লেখাপড়া চালাবে এ নিয়ে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত। আদিতমারী (লালমনিরহাট) : ব্যাংকার হবার ইচ্ছে থাকলেও ভবিষ্যত্ উচ্চশিক্ষা নিয়ে শংকিত হাবিবুর রহমান। আদিতমারী ডিগ্রী কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া দিনমজুর আবুল কাশেমের একমাত্র সন্তান হাবিবুর রহমান। অভাবের তাড়নায় বাবার সাথে নিজেকেও যেতে হতো অন্যের বাড়িতে কাজ করতে। শত কষ্টের মাঝেও তার মেধাকে দমাতে পারেনি দারিদ্র্যতা। সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তির সহযোগিতা কামনা করেন। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : উপজেলার রানীনগর গ্রামের দিনমজুর বাবার ছেলে মোহাঃ আসাদুজ্জামান এবারের এইচ এসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেলেও ভবিষ্যত্ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। ৬ সদস্যের পরিবার চালাতে বাবা এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছেন। মা সেলিনা বেগম এনজিও হতে লোন নিয়ে গরু পালন করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ বহন করেছেন। মায়ের প্রবল ইচ্ছা ছেলেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করিয়ে একজন ব্যাংকার বানানো। এজন্যই তিনি বিত্তমান ও বিভিন্ন সংস্থার কাছে সহযোগিতা প্রত্যাশী। এদিকে একই উপজেলার বাবা হারা সদরুলের লেখাপড়ার খরচ চালানো নিয়ে দিশাহারা বিধবা মা শেফালী বেগম। তার শেষ সম্পদ বসতভিটার ১০ শতক জমি বিক্রি করে ছেলেকে লেখাপড়া করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আলহাজ শরীফ আহম্মেদ কারিগরি উচ্চবিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয় হতে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত সাদরুল ইসলাম উপজেলার রানীনগর গ্রামের মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে। সাদরুলের বিধবা মা ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে সমাজসেবকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সাদরুলের ইচ্ছা বড় হয়ে সে একজন আদর্শ শিক্ষক হবে।