কাপ্তাই হ্রদে পর্যাপ্ত পানি মজুদ না থাকায় সঙ্কটজনক পর্যায়ে নেমে যাচ্ছে কাপ্তাই পানি বিদ্যুত্ কেন্দ্রের উত্পাদন। বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় প্রায় পানি শূন্য কাপ্তাই হ্রদ। হ্রদে পানি মজুদ স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যন্ত কম থাকায় দুর্গম পার্বত্য জনপদের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
আশি বছর লাইফ টাইমের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদের বয়স ৫০ বছরই শেষ হয়েছে। আর মাত্র ত্রিশ বছর এ হ্রদের অস্তিত্ব থাকার কথা। এ ৫০ বছরের মধ্যে হ্রদে একবারও সংস্কার কাজ হয়নি। কোন রকম ড্রেজিং হয়নি কাপ্তাই হ্রদের তলদেশে। ৫০ বছরে পাহাড়ের পাদদেশ ঝড় বৃষ্টিতে ক্ষয়ের কারণে তলদেশের উচ্চতা ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।
পানির উচ্চতা হ্রাস পাওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য সঙ্কট মারাত্মক আকার ধারণ করবে। কারণ এসব এলাকায় খাদ্য ও অন্য সামগ্রী পরিবহনের জন্য নৌ-পথ ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। সড়ক যোগাযোগ নেই এমন অনেক জনপদ রয়েছে পার্বত্য এলাকায়। এসব এলাকায় নাব্যেরকারণে নৌ-পথ এ গ্রীষ্মেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি-বাঙালিরা সঙ্কটের মুখোমুখি। হ্রদে পানি রয়েছে নামমাত্র।
গত পাঁচ বছরে হ্রদে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। ভাটিতে বৃষ্টিপাতের চেয়ে উজানে বৃষ্টিপাত কম। কাপ্তাই হ্রদের ৩শ বর্গ কিলোমিটার ক্যাচমেন্ট এরিয়ায় বৃষ্টিপাত অনিয়মিত হয়ে পড়ায় প্রতিবছরই পানি মজুদে ঘাটতি থাকছে।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার ৬টি উপজেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের কিলোমিটারের পর কিলোমিটার নৌ-পথ নাব্যহীন হয়ে পড়েছে। বড় লঞ্চ তো দূরের কথা ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌ-যানও চলাচল করতে পারছে না। সব কটি উপজেলা মিলে অন্তত একশ কিলোমিটার নৌ-পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
১৯৭৬ সালের পর কাপ্তাই হ্রদে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একবার সার্ভে করে তিনটি পয়েন্টে লাইফ টাইম নির্ধারণের পর ড্রেজিং করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল; কিন্তু পরবর্তী সময়ে কৃত্রিম এ হ্রদটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ হয়নি। ফলে হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। তার উপর গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে অনিয়মিত হয়ে পড়েছে বৃষ্টিপাত।
