যৌতুক লোভী প্রবাসী স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দিয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গৃহবধূ নাজনীন বেগম (৩২)। এরপর মামলা করে দুই সন্তান নিয়ে ঘরছাড়া হয়েছেন। আর এখন দুই সন্তানসহ তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
জানা যায়, ১৫ বছর আগে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের তোতা মিয়া হাওলাদারের মেয়ে নাজনীন বেগমের সঙ্গে একই গ্রামের রুস্তুম গাজীর ছেলে নিজামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর নিজাম সৌদি আরব যাওয়ার জন্য নাজনীনের পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। ওই যৌতুকের দাবি তুলে প্রায় নাজনীনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাত নিজাম ও তার পরিবার। পরে নাজনীনের পরিবার নিজামকে সমুদয় অর্থ দিয়ে সৌদি আরবে পাঠায়। ১০ বছর সৌদিতে অবস্থানের পর ২০১১ সালে সে দেশে ফিরে আসে। দেশে এসে নিজাম একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। নাজনীন স্বামীর এ অনৈতিক কাজে বাধা দিতে গেলে তার ওপর নির্যাতন করে মারাত্মক জখম করলে নাজনীনকে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয় সালিশে নিজাম পরকীয়ায় আর জড়াবে না এই অঙ্গীকার করে পুনরায় নাজনীনকে ঘরে তুলে নেয়। গৃহবধূ নাজনীন জানান, দ্বিতীয় দফায় যৌতুকের দাবি তুলে দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় স্বামী লাঠি দিয়া তাকে তলপেটে আঘাত করলে রক্তক্ষরণে তার দুই মাসের পেটের শিশুটি নষ্ট হয়ে যায়। এরপর গত ৪ জুলাই নির্যাতিত নাজনীন স্বামী নিজাম গাজীসহ শ্বশুর পক্ষের সাত জনের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
আসামিরা গত এক সপ্তাহ আগে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তাকে ও তার দুই সন্তানকে প্রাণনাশে হুমকি দিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় তার ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র তুষার ও চার বছরের মেয়ে মাকিমাকিকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. আবুল বাশার বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন আছে।
