গণসংযোগে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫১
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ও ১৮ দলীয় জোটকে সুসংগঠিত করতে গণসংযোগে যাচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার প্রায় দুই মাসব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসাবে খালেদা জিয়া ৮টি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এছাড়া আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিএনপির ৫৬টি টিম নিয়ে ৭৫টি সাংগঠনিক জেলায় গণসংযোগ করবেন দলের সিনিয়র নেতারা। জোটের অন্য শরিকরাও নিজ দলের ব্যানারে গণসংযোগ চালাবেন। গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সে অনুযায়ী আগামী ৭ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, ১৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ১৬ সেপ্টেম্বর রংপুর, ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৮ সেপ্টেম্বর বরিশাল ও ৫ অক্টোবর সিলেটে এবং ঈদুল আযহার পর ঢাকা ও চট্টগ্রামে ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকারকে শেষবারের মত দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করবো সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তিনি বলেন, অনেক পত্রিকায় লেখে প্রধান দুই দলের অনঢ় অবস্থা। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই আমাদের কোন অনঢ় অবস্থা নেই। আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা চাই। কিন্তু সরকার দেশকে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে, তাতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে ওঠছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশিদের চাপে আমরা গণসংযোগ দিয়েছি এ ধরনের মানসিকতায় বিএনপি বিশ্বাস করে না। বরং আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, অযথা একগুয়েমি ও সময়ক্ষেপণ না করে বরং জনগণকে স্বস্তি দিতে সংবিধানে নির্দলীয় সরকারের বিধান পুনর্বহাল করুন। তিনি বলেন, ১৮ দলীয় জোট গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে মোকাবিলা করবো। নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করেই আমরা দাবি আদায় করতে চাই। মির্জা ফখরুল আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আদালতের রায়ে দুটি অংশ ছিল। সরকার তার একটি অংশ মেনেছে অন্য অংশটি মানেনি। বিগত সময়ে নির্বাচনকালীন সরকারের যে রূপরেখা ছিল তা বহল করুন। তবেই সব সংকট দূর হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ সদস্য ড. রেদওয়ান উল্লাহ সাইদী, ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর (অব.) ইব্রাহীম বীরপ্রতীক, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপ ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মুবিন, এলডিপির মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ প্রমুখ।