শান্ত ফুলের মতোই কলেজের মাঠে বসে আছে সবাই। অপেক্ষা একটি মুহূর্তের। স্বপ্নের জাল বুনছেন মনে মনে। সবাই যেন জয়কীর্তনের অপেক্ষায়। আনন্দের মুহূর্ত উতরানোর অপেক্ষায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। এক সময় অপেক্ষার পালা শেষ হলো। অধ্যক্ষ ঘোষণা দিলেন সবার সাফল্যের খবর। হাজির হলো আনন্দের অনিন্দ মাহেন্দ্রক্ষণ। মুহূর্তে প্রজাপতির মতো ডানা মেলে স্বপ্নগুলো। এইচএসসির পর রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ কলেজের পরিবেশ ছিল এমন।
নটরডেম কলেজের জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থী তারেক মাহমুদ। বড় ভাই সেলিমের মতো ভালো ফল করে মায়ের মুখ উজ্জ্বল করেছে। স্বপ্ন তার অনেক বড়। বিমানের পাইলট হওয়ার স্বপ্নটা আগলে রেখেছে বুকের মাঝে। ছেলের ভালো ফলাফলে বেজায় খুশি মা সুলতানা রাজিয়া রেখাও।
ঢাকা কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী হাসিফ অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, বাবা ছোটবেলায় ভাল ছাত্র ছিলেন। তিনি ডাক্তার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাবা তার জীবনে সে আশা পূরণ করতে পারেননি। তারপর তিনি আমাকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। তাই বাবার আশা পূরণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।
ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী বারি বিনতে লুবনা সফলতার সঙ্গে শিক্ষা জীবন শেষ করে বড় ব্যবসায়ী হতে চান। বাবা একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে বাবার হালটা এক সময় তাকেই ধরতে হবে। কমার্স কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ইসরাত জাহান আঁখি। শিক্ষকতা পেশা তার দারুণ পছন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নত শিক্ষা দানের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত হতে চায় মেয়েটি। একই কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে শামীম খান। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তিনি এ সফলতা অর্জন করেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। তার স্বপ্ন বড় হয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীতে যোগদান করার।
কবি নজরুল কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে পিনু, মিতু, শারমিন, লিজা, শান্তা ও সাদিয়া। তারা প্রত্যেকেই শিক্ষা জীবন শেষে আইন ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে চায়। একটু সামনে গিয়ে দেখা হয় রবিন, শাহেদ, সাব্বির, সাইফুল, আরিফ ও রাকিবের সঙ্গে। তারা সবাই হতে চায় প্রকৌশলী। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে জানান তারা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ ঘরে তোলা সামিয়া জাহান তোফা, খাদিজা আক্তার আশিকা, ফাহমিনা আলমের স্বপ্ন ভিন্ন রকম। তারা শান্তির রং সাদা পোশাক পরবে কর্ম জীবনে। চিকিত্সক হয়ে নিজেরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষকে চিকিত্সা সেবা দিতে চায়। পরীক্ষার ফল প্রকাশের আগের রাতে তাদের কারোরই ভাল ঘুম হয়নি বলে জানালেন। ফল প্রকাশের পর সকল টেনশন দূর হয়ে যায় বলে মন্তব্য করে আগামী দিনের এ চিকিত্সকরা।
