গল্প নয় সত্যি

বুদ্ধি খুলতে জলপান!

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৪
জটিল কোনো সমস্যা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ থেকেই হয়তো মাথা ঘামাচ্ছেন। কিন্তু সমাধানটা হবো হবো বলেও হচ্ছে না। এ অবস্থায় মাথা ঠাণ্ডা রাখাটা অবশ্যই জরুরি। সেই সাথে জরুরি চট করে এক গ্লাস পানি খেয়ে নেওয়াটাও। ভাবছেন নেহাত কোনো রসিকতার কথা বলা হচ্ছে ছাপার হরফে! কিন্তু এই একই কথার আগে যদি জুড়ে দেওয়া যায় গবেষকদের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার উদ্ধৃতি তাহলে নিশ্চয়ই আপনিও কথাটা কিছুটা হলেও বিশ্বাস করবেন। আসলে কোনো জটিল সমস্যার সমাধান জলের মতো সোজা কাজ না হলেও জলপান আদপে বাড়িয়ে দেয় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা। আর এই মস্তিষ্কের এই বাড়তি কর্মক্ষমতাই হয়তো আপনার সমস্যার অন্ধকারে দেখাতে পারে আশার আলো। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃত ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের একদল গবেষক জানিয়েছেন, মাত্র এক গ্ল¬াস পানিও কখনও কখনও মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা বা দক্ষতা ১৪ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিতে পারে। গবেষক বিজ্ঞানীদের এই দলটি আরও জানিয়েছেন যে কেউ যখন প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় ধরে কোনো কাজ নিয়ে মাথা ঘামাতে থাকে তখন তার মস্তিষ্ক বেশ অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর এ অবস্থায় মাত্র আধ গ্ল¬াস পানিও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে গবেষণার অংশ হিসেবে যে ৩৪ জন নারী ও পুরুষের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয় তাদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, এরা যখন তৃষ্ণার্ত অবস্থায় কাজ শুরু করেন তখন যে গতিতে কাজ করতে পারেন তার চাইতে পানি পান করার পর সেই একই ধরনের কাজ অনেক বেশি দ্রুততার সাথে করতে পারেন। অন্যদিকে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে যেয়ে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন যে, কোনো একজন ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত অবস্থায় তার তৃষ্ণার বিষয়টি নিয়ে কিছুটা হলেও ভাবেন বলেই কাজের বিষয়ে তার পূর্ণ মনোযোগ আসে না। আর এ কারণে কমে যায় মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা। কাজেই গুরুত্বপূর্ণ কাজের শুরুতে এক গ্লাস পানি সমস্যায় হাবুডুবু খাওয়া ব্যক্তিদের কাজে আসবে বলেই দাবি এই গবেষকদের।