সহজে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে তথ্য বহন করার জন্য এখন পেনড্রাইভ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি ব্যবহূত মাধ্যম। ছোট আকৃতির ডক্যুমেন্ট ফাইল থেকে শুরু করে বড় বড় সব মাল্টিমিডিয়া ফাইল স্থানান্তরের জন্যও পেনড্রাইভের বিকল্প খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বহনযোগ্য এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক এই কাজে ব্যবহূত হলেও এর চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে পেনড্রাইভ। কিন্তু পেনড্রাইভের তথ্যকে সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?
ডাটা এনক্রিপশন হচ্ছে কোনো ডিজিটাল তথ্যকে অন্যের নজর থেকে সুরক্ষিত রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়। এনক্রিপশন করে রাখা কোনো তথ্য কারও হাতে পড়ে গেলেও খুব বেশি সমস্যা নেই। কেননা এই এনক্রিপশন করা তথ্য থেকে মূল তথ্য উদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে এনক্রিপশন যদি করা হয়ে থাকে ২৫৬-বিট ব্যবহার করে, তাহলে তাকে ভাঙার মতো শক্ত কাজ আর নেই। প্রফেশনাল হ্যাকারদেরও ঘাম ছুটে যাবে এই কাজ করতে। ফলে ওই তথ্য উদ্ধার করার চিন্তা তারা ছেড়েই দেবে বলেই আশা করতে পারেন আপনি।
তবে আলাদা করে একটি পেনড্রাইভে তথ্যের এনক্রিপশন করাটাও খুব বেশি সহজ কাজ নয়। এতেও রয়েছে নানা ধরনের ঝামেলা। আর তার ফলে এই ঝামেলায় জড়াতে চান না অনেকেই। এই ঝামেলাকেই সহজ করে দিতে অ্যাডোনিকস টেকনোলজি তৈরি করেছে ‘সাইফারইউএসবি’। এটি আসলে পিসির সাথে বিভিন্ন ইউএসবি ডিভাইস যুক্ত করার একটি বিশেষ ইন্টারফেস, যা কিনা ওই ইউএসবি ডিভাইসের সকল তথ্যকে এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত করতে সক্ষম। ফলে এটি থাকলে আর আপনার ইউএসবি ডিভাইসের তথ্যের সুরক্ষা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই। আর সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক ড্রাইভ, মিডিয়া কার্ডসহ ইউএসবি অপটিক্যাল ড্রাইভ ব্যবহার করে বার্ন করা সিডি, ডিভিডি কিংবা ব্লুরে ডিস্কও এর মাধ্যমে এনক্রিপশন করা যায়। এককথায় যেকোনো ধরনের ইউএসবি ডিভাইসের তথ্যই নিরাপদ রাখা যায় এর মাধ্যমে।
‘সাইফারইউএসবি’ মূলত একটি ইউএসবি ডংগল যার অভ্যন্তরে রয়েছে এফআইপিএস (ফেডেরাল ইনফরমেশন প্রসেসিং স্ট্যান্ডার্ড)/ এনআইএসটি (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেকনোলজি) কর্তৃক স্বীকৃত মিলিটারি গ্রেড ২৫৬-বিট এইএস ক্রিপ্টো ইঞ্জিন। একবারই মাত্র এই ডংগলটি ইন্সটল করে নিতে হয় পিসিতে। আর তখনই প্রয়োজন হয় একটি ‘এনক্রিপশন কী’। একবার সেটআপ হয়ে গেলে পরবর্তীতে আর কোনো ধরনের পাসওয়ার্ডেরও প্রয়োজন নেই এটি চালানোর জন্য।
‘সাইফারইউএসবি’র উভয় দিকেই রয়েছে ইউএসবি অ্যাডাপ্টার ইন্টারফেস। এর একদিক যুক্ত করতে হয় পিসির সাথে এবং অন্যদিকে যুক্ত করতে হয় অন্য যেকোনো ইউএসবি ডিভাইস। আর এর জন্য আলাদা কোনো প্রোগ্রাম বা ড্রাইভার প্রয়োজন হয় না বলে যেকোনো ডিভাইসেই সাইফারইউএসবি থাকলে কাজ করা যায়। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, সব ধরনের অপারেটিং সিস্টেমের সাথেই কাজ করতে সক্ষম এটি। আর এর মাধ্যমে কোনো ইউএসবি ডিভাইস পিসিতে যুক্ত করলে তা সধারণ সময়ে সেই ডিভাইসের কার্যক্রমের মতোই একই গতিতে কাজ করে। ফলে বাড়তি সময়ও ব্যয় করতে হয় না।
সাধারণ একটি পেনড্রাইভের আকৃতিতে সাইফারইউএসবি তথ্যের সুরক্ষার একটি নির্ভরশীল উপায়। এর মাধ্যমে যে ইউএসবি ডিভাইস যুক্ত হবে, সেই ডিভাইসের যাবতীয় তথ্যই এনক্রিপ্টেড হয়ে যাবে। আর এটি সেটআপ করার সময় যে ‘এনক্রিপশন কী’ দেওয়া হবে, সেটা বহাল থাকবে আজীবন। ফলে একটি ‘সাইফারইউএসবি’ হারিয়ে গেলেও নতুন একটি কিনে ওই ‘এনক্রিপশন কী’ দিলে সেটি আগেরটির মতোই কাজ করবে। এর দামও রাখা হয়েছে হাতের নাগালেই—৩০ ডলার। তথ্যের সুরক্ষায় এটুকু টাকা খরচ করতেই হতে পারে।
