ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৩
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মহেশপুরের মাহফুজা খাতুন ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু দারিদ্র্যতা তার প্রধান অন্তরায়। উচ্চশিক্ষা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন কাউখালীর মেধাবি ছাত্র আরিফ বিল্লাহ, আদমদীঘির সাফিয়া আফরিন ডাক্তার হতে চাইলেও সামর্থ্য খুব একটা নেই, শিবগঞ্জে দিনমজুরের ছেলে মো. রনি ইসলাম স্বপ্ন দেখেন আইনজীবী হওয়ার। গৌরিপুরে দিনমজুরের ছেলে রমজান অতিকষ্টে লেখাপড়া করে পেয়েছেন জিপিএ-৫। সহযোগিতার হাত বাড়াতে এসব মেধাবী মুখের খবর জানিয়েছেন আমাদের সংবাদদাতারা। মহেশপুর (ঝিনাইদহ) উপজেলার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাহফুজা খাতুন। সে ডাক্তার হতে চাইলেও তার প্রধান অন্তরায় দরিদ্রতা। উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের দরিদ্র কৃষক মো. মহিউদ্দিন ও রূপালী বেগমের বড় মেয়ে মাহফুজা খাতুন এর আগে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। পিতা অসুস্থ হওয়ায় মাঠে ঠিক মতো কাজ করতে পারেন না। টাকার অভাবে মাহফুজা ঠিকমত প্রাইভেট পড়তে পারেনি। স্যাররা তাকে সহযোগিতা করেছেন। এমতাবস্থায় কোন প্রতিষ্ঠান বা বিত্তবান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়ালে সে চির কৃতজ্ঞ থাকবে। কাউখালী (পিরোজপুর) শত প্রতিকূলতা আর দরিদ্রতাকে উপেক্ষা করে প্রবল ইচ্ছাশক্তির জোরে এবারের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কাউখালীর মেধাবী ছাত্র আরিফ বিল্লাহ। কিন্তু উচ্চশিক্ষা নিয়ে রয়েছেন চরম সংশয়ে। পিতা উপজেলার আসপদ্দি গ্রামের আব্দুল হাই বিল্লাহ বোর্ডিংয়ের মুসল্লিদের কাছ থেকে দান আদায়কারী একজন কর্মচারি। আট দশজনের সংসারের ভার বহন করাই যেখানে দুরূহ সেখানে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালানো তার পক্ষে কোনভাবেই সম্ভব নয় বলে পিতা আব্দুল হাই জানান। কোন সহূদয় ব্যক্তির সহযোগিতা পেলে ছেলেকে শিক্ষিত করে একজন আইনজ্ঞ করে দেশ সেবায় নিয়োজিত করতে চান তিনি। আদমদীঘি (বগুড়া) বগুড়ার আদমদীঘি গার্লস স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় সাফিয়া আফরিন জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার পিতা মোফাজ্জল হোসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মাতা সাকিলা তানজিমা গৃহিণী। ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল সে। মেধাবী ছাত্রী সাফিয়া আফরিন ডাক্তার হতে চাইলেও সামর্থ্য কম। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মো. রনি ইসলামের লেখাপড়া বন্ধ হতে যাচ্ছে আর্থিক সংকটের কারণে। পিতা মো. মোশারফ হোসেন দিনমজুর, জমি মাত্র কয়েক কাঠা। মা ফেনসি বেগম জানান, মুরগি পালন ও পরের কাঁথা সেলাই করে যে অর্থ উপার্জন করতাম, তাই দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে পেরেছি। এখন প্রয়োজনে আমি বসতবাড়ি ও রক্ত বিক্রি করে হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করাবো। রনির ইচ্ছা সে একজন খ্যাতনামা আইনজীবী হবে। এজন্য সে দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) অভাবের সংসারে যেখানে মুখের আহার জুটে না, সেখানে লেখাপড়া করার স্বপ্নকে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হলেও খেয়ে না খেয়ে এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের সহায়তায় উপজেলার গুজিখাঁ গ্রামের দিনমজুর পিতা আক্কাস আলীর ছেলে রমজান আলী আলিম পরীক্ষায় গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে। মা সোলেমা খাতুন হাঁস-মুরগি পালন করে তা থেকে উপার্জিত টাকা দিয়ে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালাতে সহযোগিতা করেছে। ভবিষ্যতে সে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে চায়। কিন্তু দিনমজুর পিতার পক্ষে তার উচ্চশিক্ষার খরচ চালানো অসম্ভব। তাই কিভাবে সে লেখাপড়া চালাবে এ নিয়ে পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়।