সাতকানিয়ায় জলাবদ্ধতায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২২:২২
আঁরার চেয়ারম্যান, মেম্বর বেগগুন হন হাচ ন গরে, পানি যাইবার নালা গরিব হই ট্যাঁ আনি এককানাগরি মানুষেরে দেহাবাল্ল্যাই গাত গরিয়েরে ট্যাঁ হাইফেলাই। পানির গাই পানি তাইযাই। আঁরা হষ্ট পাই (অর্থাত্ আমাদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কোন কাজ করে না, পানি নিষ্কাশনের নালা করার প্রকল্প দিয়ে টাকা এনে নালা করার নামে লোকদেখানো একটু গর্ত করে প্রাপ্ত বরাদ্দের টাকা খেয়ে ফেলে। সামান্য গর্তে পানি নিষ্কাশন না হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। আমরা কষ্ট পাই) আক্ষেপ করে রাগের সাথে কথাগুলো বলছিলেন উত্তর কালিয়াইশ মিজ্জিপাড়া খানবাড়ি এলাকার জমে থাকা ময়লা পানির উপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারীরা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাটগড়-আলমগীর সড়কের উত্তর কালিয়াইশ মিজ্জিপাড়া খানবাড়ি এলাকার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। সামান্য বৃষ্টি হলে ২ ফুট পানি জমে সড়কের উপর। পাশে রয়েছে একটি ডোবা। ডোবার পাড়ে এলাকার বাসিন্দাদের শৌচাগার। পানি জমলে ভাসতে থাকে ময়লা। এ ময়লা পানির উপর দিয়ে হাঁটতে হয় এলাকাবাসীসহ দূর-দূরান্তের পথচারীদের। উত্তর কালিয়াইশের বাসিন্দা ছাড়াও কাটগড়-আলমগীর সড়কের উপর দিয়ে যাতায়াত করে পার্শ্ববর্তী ধর্মপুর ও বাজালিয়া ইউনিয়নের লোকজন। দোহাজারী সদরের সাথে তাদের যোগাযোগের একমাত্র সহজ মাধ্যম এ সড়ক। তাছাড়া এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ, জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজ, কাটগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জামিজুরী সুন্নিয়া মাদ্রাসা, দোহাজারী আ. রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, দোহাজারী বালিকা বিদ্যালয়, দোহাজারী কারিগরি বিদ্যালয়, রসুলাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসা ও বিজিসি ট্রাষ্ট স্কুল এন্ড কলেজ এবং বিজিসি ট্রাষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। সামান্য বৃষ্টিতে জমে থাকা এ ময়লা পানি পায়ে হেঁটে পার হয়ে যেতে হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। একবার বৃৃষ্টি হলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত জমে থাকে পানি। যার ফলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে এলাকাবাসীর। এক সময় এ পানি চলত এলাকার আবদুল জলিলের ভিটের উপর দিয়ে। তার মাটির ঘর ভেঙ্গে যাওয়ার উপক্রম হলে সে পানি চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় নিয়মিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকবাসীর চলাচলের বিকল্প কোন পথ থাকায় এলাকার সমাজকর্মী মুনির আহমদ, আবুল খায়ের, নূর মোহাম্মদ ও মো. ইছমাইলসহ কয়েকজন মিলে বালির বস্তা দিয়ে কোনরকমে চলাচলের পথ তৈরি করে দেয়। একটু ভারি বৃষ্টি হলে তাও পানিতে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি টিআর প্রকল্প দেয়া হয়। প্রায় ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ সাড়ে ৪শ’ ফুট লম্বা নালা দিয়ে পানি পূর্বদিকের বিলে ফেলে নিষ্কাশনের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করে আবার মাঝপথে সিদ্ধান্ত বদলিয়ে উত্তর দিকে শংখ নদীতে ড্রেনের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করে। এ ড্রেনের কাজও শেষ না করে মাঝপথে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস শুক্কুর বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে আমি নালার কাজ পূর্বদিক থেকে উত্তর দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি। চেয়ারম্যান শব্বির আহমদ ওসমানী জানান, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধে শংখ নদীর দিকে ড্রেন করা হয়েছিল। কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, বরাদ্দকৃত অর্থের তুলনায় কাজ বেশি হওয়ায় শেষ করা সম্ভব হয়নি। সামনে বরাদ্দ পাওয়া গেলে পানি নিষ্কাশনের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করা হবে। তখন আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।