সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারে উপকূলের অনেক স্থান প্লাবিত হয়েছে। টানা বর্ষণে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটছে। দেশের পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় চাষাবাদ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন কৃষকরা ।
আমাদের উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার থেকে টানা বর্ষণে উখিয়ার অর্ধ শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সরেজমিন জালিয়াপালং ইউনিয়নের খরস্রোতা রেজু খাল এলাকা প্রত্যক্ষ করে দেখা যায়, রেজু খালের পাড়ে বসবাসরত প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। সাগরের পানি জোয়ারের সময় বৃদ্ধি পেয়ে রেজু খালের পাড়ে বসবাসরত অধিকাংশ মানুষের ঘরে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকা চোয়াংখালী, মাদারবনিয়া, ছেপটখালী ও মনখালী এলাকায় সমুদ্রের ভাঙ্গনে হাজারেরও অধিক ঝাউ গাছ বিলীন হয়ে গেছে। উপকূলে বসবাসরত অধিকাংশ পরিবার ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি থেকে জনসাধারণকে রক্ষার জন্য মাইকিং করে তাদের অন্যত্র আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
রামগতি সংবাদদাতা জানান, ভারি বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা দুইটির পশ্চিম অঞ্চলে প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ভারি বর্ষণের সঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় উঠতি আমন ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঙ্গলবার পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার সন্ধ্যা, কচা, কালিগঙ্গা, চিরাপাড়া, গাবখান— এ পাঁচটি নদীর জোয়ারের পানিতে ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গত কয়েকদিন ধরে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে আছেন এলাকার হাজার হাজার মত্স্যচাষী।
হাতিয়া সংবাদদাতা জানান, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ ও অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়া উপজেলার সুখচর ইউনিয়ন ও নিঝুমদ্বীপের নিম্নাঞ্চল চার থেকে পাঁচ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার কয়েক হাজার পরিবার সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে।
রামু (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, রামুতে উজানী ঢল ও টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বাকখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ২০ থেকে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা (মক্কা’র) সভাপতি প্রবাসী আলহাজ্ব নুরুল হক নুরুর উদ্যোগে মঙ্গলবার চিড়া, গুড়, বিস্কুট, কলা, বিশুদ্ধ পানি, পাউরুটিসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
ভোলা উত্তর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া ও কাচিয়া ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার বাড়িঘর উত্তাল মেঘনার পানিতে তলিয়ে গেছে। লোকজন ঘরের পাটাতনে রাত কাটিয়েছে। উল্লেখিত চারটি ইউনিয়নের অন্তর্গত মেঘনা পাড়ে কোন বেড়ীবাঁধ নেই বলে জানিয়েছে ধনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমদাদুল হক মিলন। তিনি আরো জানান, এই ইউনিয়নগুলোর লোকসংখ্যা ৮০ হাজারের মতো।
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, পূর্ণিমার জো’র প্রভাবে ফুঁসে ওঠা মেঘনার জোয়ারের পানিতে মঙ্গলবার ৬ষ্ঠ বারের মতো বোরহানউদ্দিনের দুই-তৃতীয়াংশ জনপথ জোয়ারে ভাসছে। স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৯ সে.মি. উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় প্রায় ৯ কি.মি. খোলা বেড়ীবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৯ ইউনিয়নই পানিতে তলিয়ে আছে। ফলে ঘরবাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থাপনা পানিতে নিমজ্জিত। এ ছাড়া সোম ও মঙ্গলবার যথাক্রমে ৯০ ও ৯৫ মিঃ মিঃ বৃষ্টিপাত হওয়ায় জনজীবনে ভয়াবহ দুর্যোগ নেমে এসেছে। ওই এলাকার মানুষ রান্না-বান্না করতে না পারায় অনাহার-অর্ধাহারে কাটছে অনেকের জীবন। এলাকার নলকূপগুলো পানিতে ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এক কথায় বিপর্যয় নেমে এসেছে উপজেলার প্রায় দুই লাখ মানুষের জীবনে। মঙ্গলবার বিকালে পানি ঢুকেছে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড, ভোলা পলিটেকনিক, থানা ও বিদ্যুত্ অফিসে ।
