লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে প্রায় চার হাজার পরিবার

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
জেলার লামায় বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলায় বাড়ি, রাস্তা ও গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা সদরের সাথে ইউনিয়নগুলোর সড়কের যোগাযোগ ভেঙ্গে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টিতে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে পথচারিদের সড়কে চলাচল একবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এদিকে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে পড়েছে। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে এ সকল ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে ধসের সৃষ্টি হলে ব্যাপক জানমালের ক্ষতির আশংকা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়া, নোয়াপাড়া, বাজারপাড়া, হাসপাতালপাড়া, লাইনঝিরি, কলিঙ্গাবিল, লামা মুখ এলাকা, রূপসীপাড়া, ফাঁসিয়াখালী, ফাইতং, আজিজনগর ও লামা সদরের ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল শত শত একর রোপা আমন ধান পাহাড়ি ঢলের সাথে নেমে আসা বালিতে তলিয়ে গেছে। বালির নিচে চাপা পড়েছে কৃষকের শ্রম ও স্বপ্ন। হয়েছে প্রতিটি রাস্তা, পুল ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষতি। ধসে গেছে রাস্তার দুই ধার। লামা পৌরসভার নয়াপাড়া এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, লামা হলি চাইল্ড স্কুল এন্ড কলেজসহ আশপাশের ঘরে পানি ঢুকেছে। একইভাবে উপজেলা ডাকঘর, বাস স্টেশন এলাকার রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। উপজেলা সদরের ১টি কলেজ, ৩টি মাধ্যমিক ও ২টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদ্রাসা ও ১টি কিন্ডারগার্ডেন, ৮টি সরকারি ও ৮টি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি হাফেজিয়া ও কওমি মাদ্রাসাসহ, ১টি সরকারি হাসপাতাল, প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, হাটবাজার, ব্যাংকসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সড়কগুলোতে গর্ত হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত বা যোগাযোগে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হয় যাতায়াতকারীদের। লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, লামা উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়নে দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। গত বছর গত ২৭ জুন রাতে প্রবল বৃষ্টিতে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের রইম্যাখোলা, পোঁকখাইয়া ঝিরি, মগনামাপাড়া ও রূপসীপাড়া ইউনিয়নের সামাইছড়িতে পাহাড় ধসের মাটি চাপায় মর্মান্তিকভাবে মারা গেছে একই পরিবারের ১১ জনসহ ২৭ জন। এর আগে ২০০৯ সালের ৩০ আগস্ট আজিজনগর ও গজালিয়ায় একই পরিবারের ৬ জনসহ মারা গেল ১১ জন। এছাড়া পাহাড় ধসে প্রতিবছরই অনেকে আহত হচ্ছেন। আবার এ কারণে বাড়ি ভেঙ্গে যাচ্ছে। স্থানীয় জন প্রতিনিধিদের দেয়া তথ্য এবং সরজমিনে দেখা গেছে, লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের চূড়া কিংবা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে প্রায় ৪ হাজার পরিবারে ২০ হাজার মানুষ এখনো বসবাস করছে। পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে—আজিজনগরের হরিণমারা, চিউরতলী, চিউনিপাড়া ও তেলুনিয়া, ফাইতং ইউনিয়নের রইম্যাখোলা, পোঁকখাইয়া ঝিরি, মগনামাপাড়া গজালিয়া, সরই, ফাসিয়াখালী এবং রূপসীপাড়ার পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী বাসিন্দারা। এছাড়া লামা পৌর এলাকার হাসপাতালপাড়া, চেয়ারম্যানপাড়া, নুনারবিলপাড়া, কুড়ালিয়ার টেক, টি এন্ড টি পাড়ায়ও লোকজন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ইতিমধ্যে ২ দফা ভারি বর্ষণ হয়ে গেছে। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিদের তালিকা তৈরি করে অধিক ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে সরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।