তৃণমূল নির্বাচন কর্মকর্তার পদ আপগ্রেড করা হচ্ছে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৮
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তৃণমূলের প্রথম শ্রেণীর পদ মর্যাদার উপজেলা ও থানা সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদগুলো আপগ্রেড করা হচ্ছে। আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ৩০১টি পদকে সিনিয়র স্কেল দেয়ার বিষয়টি অনুমোদন করেছে কমিশন। এসব কর্মকর্তার পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আজ বুধবার সাংগঠনিক কাঠামো কমিটির বৈঠক আহবান করা হয়েছে। ওই বৈঠকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদগুলো আপগ্রেড করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূলের কর্মকর্তাদের সিনিয়র স্কেল সংক্রান্ত দাবির মুখে সম্প্রতি কমিশন সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদসহ ৮ সদস্য নিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো কমিটি গঠিত হয়েছে। চার নির্বাচন কমিশনার, সদস্য সচিব হিসেবে কমিশন সচিবালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অণুবিভাগ (এনআইডি), নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ও উপজেলা/থানা পর্যায়ে ৬১৯টি কর্মকর্তার পদ রয়েছে। কিন্তু পদোন্নতির সুযোগ খুবই সীমিত এসব উপজেলা/থানা ও সহকারি পরিচালক ও সহকারি সচিবদের। কারণ ইসির এসব কর্মকর্তাদের বিপরীতে এতোদিন পদোন্নতির সুযোগ পেয়ে আসছেন ৮৬ জন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে সিনিয়র সহকারি সচিবের ১৮টি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ১৮টি, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার ২০টি এবং উপ-পরিচালকের ৮টিসহ মোট ৮৬টি পদোন্নতিযোগ্য পদ। শূন্য হওয়ার সাপেক্ষে ধাপে ধাপে এসব পদ পূরণ হয়ে আসছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে একপদে চাকরি করে কোন পদোন্নতি পাচ্ছিলেন না অনেকেই। কারণ উপজেলা ও থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মধ্য থেকে ২০০০ সালে পদ শূন্যের ভিত্তিতে ৩ জন সিনিয়র সহকারি সচিব পদে পদোন্নতি পান। একইভাবে ২০০৪ সালে ৭ জন, ২০০৫ সালে ৩২ জন পদোন্নতি পান। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কমিশনের কাছে সিনিয়র স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারা ৮৬টির পরিবর্তে ৩০১টি পদের দাবি করেন। কমিশনের প্রস্তাবের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয় ও জন-প্রশাসন মন্ত্রণালয় একমত হলে দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়া এসব কর্মকর্তার হতাশা কাটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে তৃণমূলের একজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, উপজেলা-থানার কর্মকর্তাদের পদ মর্যাদা দেয়া হলে তাদের কোন বেতন বাড়বে না। অনেকের বেতন সিনিয়র সহকারী সচিবের থেকে ছাড়িয়ে গেছে। দীর্ঘদিন একপদে চাকরি করে তারা বিরক্ত। যার কারণে অনেক তরুণ নির্বাচন কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে অন্য চাকরিতে যোগদানও করছেন। অন্যদিকে বিধিমালা না থাকায় পদোন্নতি আটকে রয়েছে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের। যার জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। হুদা কমিশন ইসি সচিবালয় এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একই মর্যাদা দিতে গিয়ে এক অসম্ভব বৈষম্যের সৃষ্টি করে গেছে। এ বিষয়টিও দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে কেবল কমিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ নয়, ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলনে রয়েছেন ইসির তৃতীয় ও চতৃর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তারাও। রমজানের মাঝ সময়ে এসে তাদের আন্দোলন স্থগিত করা হলেও পুনরায় বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে যাচ্ছে তারা।