চট্টগ্রাম বিএনপির ঐক্যে ফাটল ধরিয়েছে ছাত্রদলের কোন্দল

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১০
নতুন কমিটি নিয়ে নগর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের কোন্দলের জের ধরে চট্টগ্রামে বিএনপি নেতাদের ঐক্যে ফাটল ধরেছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটির অনুসারী ও পদবঞ্চিতদের বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারাও। নতুন কমিটিতে নিজেদের পছন্দের লোক অন্তর্ভুক্ত করতে একরকম কোমর কষেই নেমেছেন তারা। এক মাস আগে অঘোষিত এ যুদ্ধের শুরুর দিকে শীর্ষ নেতারা পর্দার আড়ালে থাকলেও এখন আর কোনো রাখঢাক করছেন না তারা। নগর বিএনপি‘র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ্যেই ছাত্রদলের বিরোধে মদদ দিচ্ছেন বলে দলের একাধিক নেতা ইত্তেফাককে জানান। শীর্ষ নেতাদের মদদে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ছাত্রদলের নতুন সাধারণ সম্পাদককে ঘর থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়েছে তার বিরোধী পক্ষ। এ ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা হলেও কোন্দল মেটানোর কোনো পদক্ষেপ নেননি স্থানীয় নেতারা। বরঞ্চ গত এক মাস ধরে ছাত্রদলের বিরোধের ফসল নিজের ঘরে তুলতেই ব্যস্ত ছিলেন তারা। এদিকে, দলের একটি অংশ ছাত্রদলকে নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতারা বিরোধে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের একাংশের নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তারা সংকট নিরসনে দলের চেয়ারপার্সনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিবৃতিতে তারা বলেন, মহানগর বিএনপির নেতাদের পরস্পর বিরোধী বক্তব্যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা হতাশ হচ্ছে। তারা বলেন, কিছু সুবিধাবাদী, নবাগত ও ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে পরিচালনা করার অপচেষ্টা করায় এবং দলীয় আনুগত্যের চেয়ে ব্যক্তিগত আনুগত্যকে প্রাধান্য দেয়ার কারণে দলকে বিভিন্ন সময় সংকটে পড়তে হচ্ছে। তারা ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের সমন্বয়ে দলকে সংগঠিত করার জন্য চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার কাছে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যনির্বাহীসহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন, কেন্দ ীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসাইন, পাহাড়তলি থানা বিএনপির আহ্বায়ক শামসুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, নগর জাসাস সভাপতি কাজী আকবর প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই গাজী সিরাজউল্লাহকে সভাপতি ও বেলায়েত হোসেন বুলুকে সাধারণ সম্পাদক করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটিকে নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনের পকেট কমিটি আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের জন্য আন্দোলন শুরু করে পদবঞ্চিতরা। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের একাংশ নগর বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এরপর তারা ছাত্রদলের নতুন সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জন্মদিনে ছাত্রদলের বিরোধকে কেন্দ করে বিএনপির বিরোধ আরো প্রকাশ্য রূপ ধারণ করে। এদিন দলীয় কার্যালয় নাসিমন ভবনে কেক কাটা ও আলোচনা সভায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি মানেন না বলে ঘোষণা দেন নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় তিনি ছাত্রদলের নতুন কমিটিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে ছাত্রদলের সভাপতি গাজী সিরাজ ইত্তেফাকের কাছে অভিযোগ করেন। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন ছাত্রদলের এ কোন্দলের পেছনে নগর বিএনপির সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী সেলিম ও ছাত্রদল নেতা মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর মদদ রয়েছে বলে ইতিপূর্বে অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ ীয় কার্যনির্বাহীসহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম নাজিম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ছাত্রদলের কোন্দলে বিএনপি নেতাদের জড়িয়ে পড়াটা খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, দলের চেয়ারপার্সন ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ছাত্রদলের কোন্দলের গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে এ আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।