ভোলায় গ্যাস যাচ্ছে ২৮ আগস্ট উদ্বোধন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১১
ভোলাবাসী পাইপলাইনে গ্যাস পাচ্ছেন। আগামী ২৮ আগস্ট এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। ১৩ বছর পর শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস ভোলাবাসী পেতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ আগস্ট সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করবে সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, ভোলা পৌর এলাকায় ৬৫ বর্গকিলোমিটারের মধ্যে ২০ বর্গকিলোমিটারে পাইপলাইন স্থাপিত হয়েছে। স্থাপিত পাইপলাইনের মাধ্যমে আপাতত ভোলার ঘরে ঘরে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ ‘ইত্তেফাককে’ বলেন, দীর্ঘদিন প্রতীক্ষার পর ভোলাবাসী গ্যাস পাচ্ছে। এতে দক্ষিণের সমস্যার অনেকখানি সমাধান হবে। দক্ষিণ এলাকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ হবে। বর্তমানে এ গ্যাস দিয়ে ভোলায় ৩৪ দশমিক পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুেকন্দ্র চলছে। এক্ষেত্রের গ্যাস দিয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। বিদ্যুেকন্দ্র ও আবাসিক ছাড়াও এই গ্যাস দিয়েই ভোলায় শিল্প ও কল-কারখানা স্থাপন করা হবে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর বলেন, বর্তমানে ওই ক্ষেত্রে মোট মওজুদের পরিমাণ প্রায় ৬৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণ ৩৩৪ বিলিয়ন ঘনফুট। প্রতিদিন এই ক্ষেত্র থেকে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। তবে এখন ৩২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস তোলা যাবে। ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ করা যাবে। যে গ্যাস আছে তা প্রায় ২০ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। সুন্দরবন গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএন ইসলাম বলেন, ভোলা শহরে আবাসিক সংযোগ দেয়ার জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সংযোগ প্রত্যাশীদের আগামী ২৫ আগস্ট থেকে অগ্রণী ব্যাংকের ভোলা শাখায় আবেদন করতে দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। রাইজার ঠিকাদারও নিয়োগ হয়ে গেছে। পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল কেনার কাজও শেষ পর্যায়ে। ২৮ আগস্ট উদ্বোধন করার পর ধারাবাহিকভাবে সংযোগ দেয়া শুরু হয়ে যাবে। ১৯৯৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া গ্রামে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়। কিন্তু এতদিন এ গ্যাস তেমন কোন কাজে ব্যবহার করা হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ভোলাবাসী। গ্যাস দেয়ার দাবিতে তারা বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে। পরে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস দিয়ে ভোলায় ৩৪ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন করা হয় এবং ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বড় বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।