একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ৭২তম সাক্ষী হিসাবে র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক উপ-পরিচালক মেজর (অব.) আতিকুর রহমান গতকাল বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য দেয়ার সময় তিনি জানান, গ্রেনেড হামলায় অংশগ্রহণকারীদের হামলার সময় প্রশাসনিক সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রদানের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর ও তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। এ নিয়ে ঐ সময় হাওয়া ভবনে তারা এক বৈঠকও করেন।
আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় আতিকুর রহমান আরো জানান, ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানের ছোট ভাই অভিকে গ্রেফতার করা হয়। ঐ দিনই ঢাকার মেরুল বাড্ডা থেকে মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার করা হয়। মুফতি হান্নানের গ্রেফতারের বিষয়টি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরকে জানানো হলে তিনি সন্তুষ্ট হননি। এছাড়া ২০০৬ সালে ডিজিএফআই শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল এবং মিজান নামের দুইজন সদস্যকে আটক করে। সিলেটে হজরত শাহজালাল (রা.)-এর মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাদের আটক করা হয়। টিএফআই সেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তারা স্বীকার করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার, সিলেটের মেয়র বদরউদ্দিন কামরান, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেবুন্নেছা হক, সুনামগঞ্জে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও হবিগঞ্জে অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ওপর হামলা চালিয়েছেন। এসব গ্রেনেড হামলায় মুফতি হান্নান ও তার ভাই অভি, জঙ্গি নেতা আহসানউল্লাহ কাজল ও আবু জান্দাল দুই দফায় নয়টি গ্রেনেড সরবরাহ করেন। হামলায় ব্যবহূত সব গ্রেনেডে বিএনপির তত্কালীন শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন সরবরাহ করেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনাকালে তারা স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর ও তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং হামলার সময় হামলাকারীদের প্রশাসনিক সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রদানের নিশ্চয়তা দেন।
