গাজীপুরে রাজনীতির হালচাল

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫১
গাজীপুর ক্রমবর্ধিষ্ণু একটি জেলা। দিন দিন এ জেলার গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে। গাজীপুর প্রবল রাজনীতি সচেতন একটি জেলা হিসাবে পরিচিত। রাজধানী ঢাকার একেবারে কাছাকাছি অবস্থিত বলে গাজীপুর রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ জাতীয় রাজনীতি ঘিরেই আবর্তিত হয়। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এমন প্রায় সব রাজনৈতিক দলের শাখা রয়েছে গাজীপুরে। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বি.এনপির রাজনীতি এ জেলায় অত্যন্ত সক্রিয়। জেলায় এ দুটি দলেরই রয়েছে শক্ত অবস্থান। এর বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসাবে আছে জাতীয় পার্টি। গাজীপুরকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বলা হয়। জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের সব কয়টির দখলে রয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্ির্থত প্রার্থী এড. মোঃ আজমত উল্লা খানকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অধ্যাপক এম.এ. মান্নান। তবে ৫৭ টি ওর্য়াডে কাউন্সিলদের মধ্যে ৩০ টিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং ২৩টিতে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়। জেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতি শক্তিশালী থাকলেও দু’দলেরই রয়েছে নানাবিধ সমস্যা। সবচেয়ে প্রকট সমস্যা হচ্ছে দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং। এ দলীয় কোন্দলের কারণে উভয় দলে বিভাজন বিষয়টি বেশ দৃশ্যমান। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয় কোন্দলকে চাপা দিতে পারলেও আওয়ামী লীগ তেমনটি পারেনি। স্পষ্টতই এর ফলাফলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয়। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে রয়েছেন গাজীপুর-১ এলাকা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এড. আ ক ম মোজাম্মেল হক। আর সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন সাবেক টঙ্গী পৌরসভার তিন তিনবার বিজয়ী চেয়ারম্যান ও মেয়র ও গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজিত মেয়র প্রার্থী এড. আজমত উল্লা খান। অপরদিকে বর্তমানে বিএনপির জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন গাজীপুর -৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একে এম ফজলুল হক মিলন এবং সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করছেন কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল। তারা উভয়েই গত কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়া জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) কাজী মাহমুদ হাসান এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ নুরুল ইসলাম এম.এ। জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের রাজনীতি দ্বিধারায় বিভক্ত। এ জন্য উভয় দলে রয়েছে দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং । এছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এসব গ্রুপিং এর বাইরেও অঞ্চল ভেদে ও নেতা ভেদে গ্রুপিং রয়েছে। উভয় দলের দলীয় কোন্দল ও গ্রুপিং নিরসনে বার বার প্রচেষ্টা চালানো ও কেন্দ থেকে হস্তক্ষেপ করা সত্ত্বেও তা দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে উভয় দলের নেতা-কর্মীরা অন্তর্কলহে জড়িয়ে পড়ে ।