যাঁদের জন্য ধন্য আমরা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫২
বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহা বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী মেঘনাথ সাহা ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ৬ অক্টোম্বর কালিয়াকৈর উপজেলার শেওড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম জনন্নাথ সাহা এবং মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী। ১৯১৫ সনে তিনি এম এস সি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৬ সনে তিনি ইন্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের পদার্থবিদ্যা গণিত বিভাগের সভাপতি নির্ধারিত হন। ১৯৩৮ সনে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগে যোগদান করেন । এখান থেকে ১৯৫৩ সনে তিনি অবসর নেন। ১৯৫৩ সনে তিনি উত্তর-পূর্ব কলকাতা নির্বাচনী এলাকা থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হন। শহীদ ময়েজ উদ্দিন জেলার অন্যতম রাজনৈতিক নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ ময়েজ উদ্দিন আহম্মেদ ১৯৩৩ সাথে কালীগঞ্জ উপজেলার বড়হরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এ ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সেগুলোর পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৮৪ সালের ২৭-সেপ্টেম্বর তত্কালীন সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী হরতাল চলাকালে কালীগঞ্জে মিছিলে নেতৃত্ব দেবার সময় সরকার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দিন বিখ্যাত সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দিন ১৯১১ সনের ১২ মার্চ (১৩১৭ সনের ২৮ ফাল্গুন) কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মোহম্মদ আব্বাস আলী ভুঁইয়া ও মায়ের নাম আফিফা খাতুন। ১৯৮৮ সালের -২৪ আগস্ট মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দৈনিক সংবাদ-এ কর্মরত ছিলেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী ১৯৪৭ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুরের অন্যতম জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার। গাজীপুর সদরের হায়দরাবাদ গ্রামে ১৯৫০ সনের ৯ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম এম এ কাদের পাঠান। ১৯৯৬ সনে এবং ২০০১ সনে পর পর দুবার তিনি গাজীপুর -২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ জনপ্রিয় নেতা আততায়ীর গুলিতে অকালে নিহত হন। ২০০৪ সনের ৭ই মে টঙ্গীর নিজ বাসভবনের সামনে এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জুম্মার নামাজের আগে আততায়ীর গুলি বর্ষণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে বিকালে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান। অ্যাডভোকেট ফকির আব্দুল মান্নান কাপাসিয়া সংবাদদাতা মরহুম এ্যাডভোকেট ফকির আব্দুল মান্নান ১৯০৯ সনে (বর্তমান গাজীপুর জেলা কাপাসিয়া থানার) ঘাগটিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করে। তিনি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিমলীগের সভাপতি এবং প্রাদেশিক সরকারের কৃষি, খাদ্য, বন, মত্স ও রিলিফ এন্ড রিহেবিটেশন মন্ত্রী ছিলেন। তাঁর এই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে কাপাসিয়ার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তাঁর ছেলেরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আ.স.ম হান্নান শাহ্, সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি শাহ্ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান, তৃতীয় ছেলের নাম শাহ্ মোবারক হোসেন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ব্যাংকার হিসেবে সুখ্যাতি রয়েছে। তার মেয়েদের মধ্যে আনোয়ারা খাতুন গাজীপুরের প্রথম মহিলা এম.এ পাশ ও প্রথম মহিলা এ্যাডভোকেট, কনিষ্ঠ মেয়ে ডাঃ আনজুমানআরা একজন বিশিষ্ট চিকিত্সক ও আন্ত্মজার্তিক খ্যাতি সম্পন্ন কলেরা রোগ বিশেষজ্ঞ। স্বভাবকবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস স্বভাবকবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস ইতিহাসখ্যাত ভাওয়াল পরগনার জয়দেবপুর গ্রামের ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৪ মাঘ জন্ম গ্রহন করেন। ১৮৭৪ সালে তিনি ব্রাহ্মণগ্রাম বঙ্গ বিদ্যালয়ের হেড পন্ডিত ছিলেন। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের ১৩ আশ্বিন তিনি মৃত্যু বরণ করেন। অ্যাড. চৌধুরী মোঃ সাদির মোক্তার গাজীপুরের কাপাসিয়ার এক কৃতি সন্ত্মানের নাম এডভোকেট চৌধুরী মোঃ সাদির মোক্তার। তিনি ঢাকা বিভাগীয় আওয়ালীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন বার এসোসিয়েশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি প্রত্যন্ত পল্লী অঞ্চলের শিড়্গার প্রসারের জন্য কাপাসিয়া ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি সনমানিয়ায় আখতার বানু হাই স্কুল, প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিখ্যাত শীতলক্ষ্যা নেভিগেশন কোম্পানির মালিক ছিলেন। যার চলাচল পথ ছিল টৌক, কাপাসিয়া হইতে ঘোড়াশাল, নরসিংদী হয়ে নারায়নগঞ্জ। তিনি কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে এলাকার জনকল্যানে অবদান রাখেন। তার সুযোগ্য ছেলে নাজমুল হাসান চৌধুরী পিন্টু। তার স্ত্রী বেগম ফাতেমা সাদির। নাজমুল হাসান চৌধুরী পিন্টু বর্তমানে ফোমেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। ভাওয়াল রত্ন নূরুল ইসলাম মাস্টার গাজীপুর প্রতিনিধি গাজীপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব ভাওয়াল রত্ন নূরুল ইসলাম মাস্টার। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তার রয়েছে খ্যাতি।শিক্ষকতার পাশাপাশি গবেষণাধর্মী সাহিত্যকর্মে নিবিষ্ট থেকেছেন তিনি। রচনা করেছেন ভাওয়ালের ইতিহাস। ছাত্র জীবনের শুরু মেধার দীপ্তি ছড়িয়ে। প্রথম শ্রেনীতে বিএ বিএড এবং সেই কৃতিত্ব অক্ষুন্ন থেকেছে এম.এ (শিক্ষা) ডিগ্রিতেও। গাজীপুর রানী বিলাসমনি সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে থেকেছেন ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত। দু’বার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন কবি গোবিন্দ দাস স্মৃতিপদক। তিনি নিজেও একজন স্বভাবজাত কবি। মেধা, সৃষ্টিশীল কর্মযজ্ঞ, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, বাগ্মীতা ইত্যাদি গুনের স্বীকৃতি হিসেব গাজীপুরবাসী তাকে ভাওয়ালরত্ম অভিধায় ভূষিত করেছে। নুরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্নের জন্ম ১৯৩৪ সালে। পৈত্রিকবাস জয়দেবপুরের মৈরান গ্রামে। বাবা- মরহুম জোবেদ আলী মাস্টার, মা- মরহুমা গোলবাহার বেগম।