আগত মুসল্লীরা আল্লাহ রাসুলের সান্নিধ্যে লাভের আশায় এই বিশ্ব ইজতেমায় ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে অংশ গ্রহন করে থাকেন। ১৯৬৬ সালে টঙ্গীর পাগাড় নামক স্থানে কয়েক হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে প্রথম ইজতেমা শুরু হয়। এর পর পর্যায় ক্রমে দেশ বিদেশের মুসল্লিদের নিয়ে ১৯৬৭ সালে বর্তমান স্থান টঙ্গীর তুরাগ (কহরদরিয়া) তীরে শুরু হয় দ্বিতীয় ইজতেমা। তার পরের বছর থেকে দেশ-বিদেশশের লক্ষাধিক লোকের সমাগম ঘটলে ইজতেমা থেকে বিশ্ব ইজতেমার নামকরণ করা হয়। টঙ্গীতে জন্ম সূত্র অবস্থানরতরা জানান, বর্তমানে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সমাগম ঘটলেও দীর্ঘ ৪৮ বছরে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি। বিশ্ব ইজতেমা শুরু থেকে এ পর্যন্ত্ম ১ বার বৃষ্টি ও ২ বার টর্নেডো ঝড় ছাড়া বড় কোন অঘটন ঘটেনি এবং ইজতেমায় আগত সকল মুসল্লিদের নিয়ম শৃঙ্খলা নিজেরাই মেনে চলেন। এতে কোন প্রশাসনের সাহায্যের প্রয়োজন হয় না।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরই অপেক্ষা করি ইজতেমায় যোগ দেওয়ার জন্য। তারা জানান, দৈনন্দিন সব কাজ শেষ করার মতো ইজতেমায়ও একটি কাজের অংশ।
সত্যিকার অর্থে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় এই বৃহত্তম জমায়েতে অংশগ্রহণ করাটাই অনেকের কাছে বড় প্রাপ্তির বিষয়। সেই হিসেবে টঙ্গীবাসীর কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত্মে প্রতিস্থাপন করেছেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসেবে বিভিন্ন ফরজ পালনের পাশাপাশি দ্বীন দুনিয়ার দাওয়াত পৌঁছে দিতে আয়োজিত এই আয়োজনে শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত্ম স্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতের আয়োজনগুলোতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ যেন নির্বিঘ্ন হয় তেমনটি প্রত্যাশা করেন টঙ্গীবাসী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পরিশ্রমে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে রাখা হয় পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশ এলাকা। এছাড়াও ইজতেমার ময়দানে কোন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এমনকি মিডিয়া প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা থাকতে দেখা যায়। এবং পুরো ময়দান জুড়ে শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে রাখে আগত মুসল্লিদের জেলা ভিত্তিক কমিটি। এছাড়াও টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার অপেক্ষা করেন স্থানীয় ও সনামধন্য ব্যাবসায়ীরা। কারন আগত মুসল্লিদের লক্ষাধিক লোকের সমাগমে ব্যাবসাও থাকে জমজমাট। আবার কোন কোন অসাধু ব্যবসায়ীদের বিচরণও লক্ষ করা যায়। আবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে পকেটমার, প্রতারক আটকের সখ্যাও চোখে পরার মতো। তুরাগ নদীর প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদীর মাঝে কানায় কানায় থাকে লঞ্চ ও ট্রলারে ভরা মহিলা মুসল্লিরা। এছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরিশ্রমও অতুলনীয়। ইজতেমা শুরুর পূর্ব থেকেই জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহন করতে হয়। এতে করে বর্তমানে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়ে থাকে।
