রাজধানীর মালিবাগে ২৩ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোক্তার হোসেনকে (৩৫) সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল বুধবার সকালে মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার আবুল হোটেলের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও পরিবার দাবি করেছে, পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মোক্তার রাজনীতির পাশাপাশি মালিবাগ-চৌধুরীপাড়া এলাকার তৈরী পোশাক কারখানার ঝুট ব্যবসা এবং কারখানায় শ্রমিক সরবরাহের কাজ করতেন। রমনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, মোক্তার পুলিশের সোর্স হিসাবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে মোক্তার তার বন্ধুদের সঙ্গে মালিবাগ আবুল হোটেলের পাশের হাশেমের চায়ের দোকানে পূর্বপরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় ৫/৬ জন যুবক মোক্তারের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোক্তারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত মোক্তারের বন্ধু শাহীন আলম জানান, সকাল ৮টার দিকে মোক্তার তার পূর্ব রামপুরার বাসা থেকে মালিবাগ আবুল হোটেলের সামনে যান। হাশেমের চায়ের দোকানে মোক্তার তার পূর্বপরিচিতদের সঙ্গে গল্প করছিলেন। কিছু সময় পর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী আবুল, আকাশ, রুবেল ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের মাদক ব্যবসার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দেয়ার কারণে হামলা চালায় বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া ঝুট ব্যবসা নিয়েও হামলাকারী আকাশের সঙ্গে বিরোধ চলছিল।
মোক্তারের বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম জানান, এক বছর আগে মোক্তারের উপর আরো একবার হামলা চালানো হয়েছিল। ঐ হামলায় তার একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায়।
রমনা থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সনাক্ত এবং গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
মোক্তার হোসেনের বাবার নাম জুরমত আলী। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রামপ্রসাদচর এলাকায়। তিনি দুই বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী ৩ সন্তান নিয়ে গাজীপুর বসবাস করেন। তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ২ সন্তান নিয়ে ১১০/৩ নাম্বার পূর্ব রামপুরায় থাকতেন।
