গত মঙ্গলবার বিকালে কাউখালী উপজেলায় বেকুটিয়ায় অজ্ঞাত আততায়ীর হাতে নৃশংসভাবে নিহত যুবলীগ নেতা এনামুল হক ইনু’র (৪৫) হত্যাকাণ্ডের ক্লু খুঁজতে মাঠে নেমেছে পুলিশ। পাশের নিলতি গ্রামের মিজান হাওলাদার (৩৫) নামে এক যুবককে কাউখালী থানা পুলিশ গতকাল বুধবার শিয়ালকাঠি চৌরাস্তা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। তিনি এনামুলের একজন সহযোগী এবং পিরোজপুর-কাউখালী অঞ্চলে ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসাবে চিহ্নিত।
গতকাল বুধবার পিরোজপুর মর্গে ময়নাতদন্তের পর কয়েক দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে এনামুলের দাফন সম্পন্ন হয়। বিকালে বেকুটিয়া নতুন হাট প্রাঙ্গণে এনামুল হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এক মানববন্ধন করা হয়। এর আগে এলাকাবাসী পিরোজপুর-বরিশাল সড়ক অবরোধ করে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, শিয়ালকাঠি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, পিরোজপুর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা মজনু তালুকদার, জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জিয়াউল আহসান, নিহত এনামুলের ভাই শহীদুল ইসলাম প্রমুখ। মানববন্ধনে এলাকাবাসীর নামে ব্যানারে স্থানীয় ৭/৮ জন যুবকের নাম খুনি হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে নিহত যুবলীগ নেতার লাশের ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার দুপুরে পুলিশ স্বজনদের কাছে হন্তান্তর করে। বিকালে নিহত এনামুলের লাশ গ্রামের বাড়ি বেকুটিয়ায় পৌঁছলে শোকার্ত স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরে বেকুটিয়া গ্রামের বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে এনামুলের নামাজে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।
এ ব্যাপারে কাউখালী থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত এনামুলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে পুলিশী নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকালে যুবলীগ নেতা এনামুল বাড়ি থেকে মটর সাইকেলযোগে বেকুটিয়া ফেরিঘাটে যাওয়ার পথে অজ্ঞাত পরিচয় একদল সন্ত্রাসী নৃশংসভাবে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। বেকুটিয়া ফেরিঘাট থেকে এক কিলোমিটার দূরে গ্রামীণ সড়কের ওপর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
