বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিতে দেশের চা শ্রমিকরা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ রোগের বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের চা শিল্পের শ্রমিকরা। চিকিত্সকদের মতে, সরকারী চিকিত্সা সুবিধা থেকেও তারা বঞ্চিত। ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশে বাস করা, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং অসচেতনতার কারণে তুলনামূলকভাবে চা শ্রমিকরা এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। অনুসন্ধানে জানা যায়, চা বাগানে বাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শ্রমিকরা অনেকে অসচেতন। এছাড়াও তারা উন্নত চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মধ্যে অন্যান্য রোগের মত যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ রোগের প্রবণতা অনেক বেশি। চা বাগানে এলাকায় ঘনবসতি ও স্যাঁতসেতে ঘরে বাস করায় এসব এলাকায় রোগের সংক্রামক বেশি পাওয়া যায়। চা বাগানে যক্ষ্মা প্রতিরোধে কর্মরত আছেন এনজিও সংস্থা হিড বাংলাদেশ ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য বিভাগ। শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক নেতা ইউপি সদস্য সিতারাম বীন বলেন, চা বাগানে মদের পাট্রায় গিয়ে মদ পান, গাদাগাদি, নোংরা পরিবেশ ও সচেতনতার অভাবে এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে চিকিত্সা পাওয়া গেলে তাদের সুস্থ হওয়া সম্ভব। শমশেরনগরে মনুভ্যালি চা শিল্প শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. সুকুমার সিংহ এবং কমলগঞ্জে হিড বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনিগুলোতে ঘনবসতি বেশি থাকায় চা বাগানগুলোতে যক্ষ্মা, কুষ্ঠ ও ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। তারা আরো বলেন, চা বাগানের নির্দিষ্ট একটি গণ্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিত্সা সুবিধা নিতে পারছে না। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধির আধিক্য বেশি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চা শ্রমিকদের মাঝে এসব রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ২০১২ সালের এপ্রিল মাস থেকে হিড বাংলাদেশ টিবি কেয়ার টু প্রকল্প, সিলেট, মৌলভীবাজর ও হবিগঞ্জ জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৭টি চা বাগানের ৬ লক্ষ ৫০ হাজার জনগোষ্ঠীর মাঝে যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে। হিড বাংলাদেশের আওতায় সিলেট বিভাগে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ বছরে মোট ৯১ হাজার ৩৮ জন যক্ষ্মা রোগী আরোগ্য লাভ করে। বর্তমানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আছেন আরো প্রায় ৪ হাজার ৬শ’ জন। সূত্র আরো জানায়, আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট মধুপুর, লংলা ও চাম্পারায় চা বাগানে সচেতনতামূলক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হবে। যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া ও কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে হিড বাংলাদেশ টিবি কেয়ার টু ও ব্র্যাক স্বাস্থ্য কেন্দ্র উঠান বৈঠকসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টিতে তথ্য, পরামর্শ ও নির্দেশনা দিচ্ছে। যক্ষ্মা প্রতিরোধে কর্মরত দুটি এনজিও সংস্থার গবেষণা মতে, চা বাগান এলাকায় এসব রোগের প্রাদুর্ভাব চা বাগানের বাইরের এলাকার চেয়ে অনেক বেশি। স্থানীয় চিকিত্সক ও সচেতন মহল মনে করেন, শুধু এনজিও নয়, সরকারি উদ্যোগেও দেশের চা শ্রমিকরা স্বাস্থ্যগত সকল প্রকার সুযোগ ভোগ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে তারা রোগব্যাধি থেকেও মুক্ত হতে পারবে।