প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুদ্ধে সচরাচর যে মারাত্মক গ্রেনেড ব্যবহার করা হয় ২১ আগস্ট সাধারণ মানুষ ও আমাকে হত্যার জন্য সেটা ব্যবহার করা হয়েছিল। কোন সভ্য সমাজ এ ধরনের ঘটনা মেনে নিতে পারে না। এটি ছিল একটি ঠাণ্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। এদের হাত থেকে অবশ্যই জাতিকে বাঁচাতে হবে। এই ঘটনা যেন আর ঘটতে না পারে সেজন্য তিনি জনগণকে জঙ্গিবাদের উত্থানের ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বাসস
গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এই নৃশংস গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি আরো বলেন, জনগণকে জঙ্গিবাদ, জামায়াত ও হেফাজত সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। তারা দেশকে ধ্বংস করে দেবে। যারা বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এমন অপরাধের সংঘটনকারী, তারা দেশের জন্য কী করবে, তারা কী সত্যি দেশের কোন মঙ্গল চায়।
শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, দুষ্কৃতকারীরা একের পর এক ১৩টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। কিন্তু ওই সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা সম্পূর্ণ নিরব ছিল। কোন প্রকার বাধা না দিয়ে তারা ঘাতকদের নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে। এমনকি লোকজন যখন আহতদের হাসপাতাল ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে এগিয়ে আসে তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে। তারা এ বিষয়ে আমাদেরকে সংসদেও কথা বলতে দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের ঘটনা নিত্যদিন ঘটেছে। এমনকি তারা ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপরও গ্রেনেড হামলা চালানোর ধৃষ্টতা দেখিয়েছে। গ্রেনেড হামলার ভুয়া তদন্ত করেছে বিএনপি এবং তারা ঘটনার সকল তথ্য-প্রমাণ ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ কোন প্রতিশোধ নেয়নি এবং আমাদের সময় বিরোধী দলের ওপর এ ধরনের কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি।
গতকাল প্রধানমন্ত্রী প্রথমে তাঁর মন্ত্রিপরিষদের সহকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ১৪ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, জাতীয় সংসদ সদস্যবৃন্দ, শহীদগণের আত্মীয়-স্বজন, আহত দলীয় নেতা ও কর্মীবৃন্দ গ্রেনেড হামলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। প্রধানমন্ত্রী আহত ব্যক্তি ও শহীদদের আত্মীয়-স্বজনের মাঝে চিকিত্সা ও তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য আর্থিক সহায়তার চেক ও সঞ্চয়পত্র বিতরণ করেন।
