শিক্ষার সর্বশেষ তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ তৈরির মুখ্য উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে হালনাগাদ কোন তথ্যই নেই। ফলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল হতে পারছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশি নয়, প্রবাসী ও বাংলাদেশের শিক্ষার তথ্য জানতে চায় এমন বিদেশিরাও এই প্রতিষ্ঠানটি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাই এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে হালনাগাদ তথ্য না থাকলে সকলেই বিভ্রান্ত হতে পারেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যানবেইসের কাছে যে তথ্য রয়েছে তা সবই পুরনো। প্রতিষ্ঠানটির অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০১১ সালের তথ্য রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সর্বশেষ ২০১১ সালের তথ্য রয়েছে। দেশে বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭১টি হলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ৫১টি। বর্তমানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৪টি হলেও ওয়েবসাইটে দেখানো হয়েছে দেশে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩১টি। চলতি বছরের জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসির ফল প্রকাশিত হলেও সে বিষয়ে কোন তথ্য নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে ২০১২ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সর্বশেষ ২০০৯ সালের তথ্য রয়েছে। কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রেও ২০১১ সালের তথ্য রয়েছে।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগম বলেন, আমাদের হালনাগাদ তথ্যের প্রয়োজন হলে নিজস্ব উদ্যোগে সংগ্রহ করা হয়। তিনি জানান, ব্যানবেইসে হালনাগাদ তথ্য থাকা উচিত, কিন্তু নেই। এবার এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্র ইজাজ আহমেদ বলেন, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটি আসন রয়েছে, দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা কত এ বিষয়ে জানতে ব্যানবেইসে যোগাযোগ করলে তারা জানান, দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৬টি। কিন্তু আমি পরে পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম এ সংখ্যা ৭১টি। ব্যানবেইস থেকে পাওয়া তথ্যে আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি।
রাজধানীর একটি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, আমাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে হালনাগাদ তথ্য প্রয়োজন। ব্যানবেইসের কাছ থেকেই আমাদের তথ্য পাওয়ার কথা। কিন্তু এই প্রতিষ্ঠানটির কাছে হালনাগাদ কোন তথ্য না থাকায় আমাদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে গবেষণা করছেন এমন শিক্ষক বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র সংখ্যা জানার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ব্যানবেইসের কাছে হালনাগাদ তথ্য পাইনি। পরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশীদ বলেন, ব্যানবেইসের চেয়ে শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে বেশি হালনাগাদ তথ্য রয়েছে। এ কারণে আমরা কখনো ব্যানবেইস থেকে তথ্য নেইনি। তিনি বলেন, ব্যানবেইসের এ তথ্য শুধু বাংলাদেশে নয়, বিদেশের কেউ তথ্য জানতে হলে ব্যানবেইসের ওপরই নির্ভর করে। তাই এ প্রতিষ্ঠানটির কাছে হালনাগাদ তথ্য থাকা প্রয়োজন।
ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রধান শামছুল আলম দাবি করেন, এ প্রতিষ্ঠানটির কাছে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে। কয়েকটি পুরনো তথ্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, ওগুলো এখনো আপডেট করা হয়নি। তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত বইয়ে যে তথ্য থাকে, ওয়েবসাইটেও সেই তথ্য থাকে। প্রশাসনিক বিষয় মোবাইলে বলা যাবে না উল্লেখ করে তিনি আর এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
