বাংলাদেশে প্রভাবশালী কয়েকটি রাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য তত্পরতা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসের শেষদিকে এ বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন দাতাসংস্থাসহ পার্শ্ববর্তী ও পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।
আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে দশম সংসদ নির্বাচনের কাউন্ট-ডাউন শুরু হবে। এর আগে ওই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ইসি সচিবালয়ে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইসির দায়িত্বশীল সূত্র ইত্তেফাককে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক বৈঠকের সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, এ ধরনের বৈঠক মাঝে মাঝে হয়, নতুন কিছু নয়। এটা রুটিন ওয়ার্ক বলতে পারেন।
গত জুলাইয়ের শেষদিকে কমিশন ও সচিবালয়ের মধ্যে এক আলোচনায় এই বিষয়টি উঠে আসে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কূটনীতিকদের সমর্থন, নির্বাচনী পদ্ধতি ও কমিশনের প্রতি তাদের মনোভাব-এসব বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে। নির্বাচনের বড় সহযোগী বিভিন্ন দাতাসংস্থার পরামর্শ চাওয়ার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন। এর আগে গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যর কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর একবার বিভিন্ন দাতা সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছিল। সেই বৈঠকে আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছিল। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে একাধিকবার দাতা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করলেও এবার বড় পরিসরে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশসহ অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়, তাদের নির্বাচন পদ্ধতি এবং সরকার পরিচালনা সবক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থার কর্ণধারদের। আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান দু’দলের পরস্পরবিরোধী মনোভাবের কারণে উদ্বিগ্ন তারা। তারা চান সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। এমনকি সময়-সুযোগমতো তাদের প্রতিনিধিরা ছুটে আসছেন বাংলাদেশে। সরকার ও বিরোধীদলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। নির্বাচন কমিশনও এর বাইরে থাকছে না। গত নভেম্বর ও মে মাসে দুই দফায় ঢাকা সফর করেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো। এরপর সফর করেছেন ওবামা সরকারের দুই প্রতিনিধি রবার্ট ব্লেক ও ফেন সারমেন। ওই সফরে নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে তার খোঁজ-খবর নেন। রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন ইস্যুতে আলোচনায় উত্্সাহিত করতে ঢাকায় প্রভাবশালী পশ্চিমা দেশগুলোর কূটনীতিকরা ‘ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ’ নামে একটি অনানুষ্ঠানিক জোট গঠন করেছেন। আর রাষ্ট্রদূতরা তো রয়েছেনই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচন নিয়ে যেসব প্রভাবশালী রাষ্ট্র সর্বদা তত্পর থাকেন ওই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ইসি। ইইউ আগামী নির্বাচন বিষয়ে সর্বদা খোঁজ-খবর রাখছেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন হতে হবে ১০ম সংসদ নির্বাচন।
