ভাগ্য খুলছে উপ-সচিব থেকে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী বঞ্চিতদের। খুব দ্রুতই এদের পদোন্নতি দেয়া হবে। তবে যেসব কর্মকর্তা উপ-সচিব পদে পদোন্নতিতে বঞ্চিত হয়েছিলেন তাদের জন্য কোনো সুখবর নেই। জনপ্রশাসনে ১৯৯৯ সালে চাকরিতে যোগ দেয়া কর্মকর্তাদের সর্বশেষ ধাপে উপ-সচিব করা হয়। ফলে প্রশাসনে পদোন্নতির দরজা আবারও খুলছে।
প্রশাসনে ’৯৯-পূর্ব একাধিক ব্যাচের ৩২৭ কর্মকর্তা এখনো সিনিয়র সহকারী সচিব। এদের মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক কর্মকর্তার সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পরও তারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন। এদের পদোন্নতির কোনো উদ্যোগ আপাতত নেই।
গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার ইত্তেফাককে জানান, বিশেষ কারো কারো বিষয় বিবেচনা বা পর্যালোচনার সুযোগ নেই। অতিতে এমন পর্যালোচনা করার নজির নেই। আগামীতে যখন পদোন্নতি বোর্ডের সভা হবে তখন সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ যুগ্ম-সচিবের পদেও পদোন্নতির জন্য বিবেচনা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডের (এসএসবি) সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব দেশে নেই। তিনি ফিরলে এসএসবির বৈঠকের তারিখ নির্ধারিত হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (ঊর্ধ্বতন নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি) মহিবুল হক বলেন, চলতি মাসে এসএসবির বৈঠক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আগামী মাসের প্রথমার্ধে এ সভা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, জুলাইয়ে দেয়া যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত চিহ্নিত করে যাদের ইতিপূর্বে পদোন্নতি দেয়া হয়নি তাদের অনেককেই পদোন্নতি দেয়া হয়। পক্ষান্তরে বাদ পড়েন সরকারের রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গি বলে পরিচিতরা। এ নিয়ে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়।
অনেকে ধারণা করে ছিলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের এ পদোন্নতিতে প্রশাসনে অস্থিরতা কমাবে; কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো। কেনো বিএনপি-জামায়াত পন্থিদের পদোন্নতি দেয়া হলো- তা নিয়ে যেমন তর্ক চলছে, তেমনি দেয়াই যদি হলো তবে সকলকে কেনো নয়- সেটি নিয়েও যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে। অনেকে পদোন্নতির পেছনে শুধু চাকরিগত যোগ্যতা নয় বরং অন্য কিছু আছে কী না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। এ বাস্তবতায় সরকার পুনরায় যুগ্ম-সচিবের পদে পদোন্নতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদেও পদোন্নতি হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে প্রশাসন ক্যাডারে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছেন ১৯৮৪ সালের ব্যাচ থেকে উপরের ব্যাচের ২৯৬ জন। ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তারাও এখন অতিরিক্ত সচিবের দাবিদার। কারণ তাদের নিচের ব্যাচের কর্মকর্তারাই এখন যুগ্ম-সচিব হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকারের সময়ে তিন দফায় ১৬৩ যুগ্ম-সচিবকে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ২৭ জানুয়ারি ৭২ জন, সাত সেপ্টেম্বর ৬০ জন এবং ১০ অক্টোবর ৩১ জন। অবশ্য দুই দফায় পদোন্নতি বঞ্চিত ২৯ কর্মকর্তা শেষবার অতিরিক্ত সচিব হয়েছিলেন।
গত ১৮ জুলাই সর্বশেষ যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। তখন ১৯৮৪ ব্যাচের যোগ্য ১২৬ জনের মধ্যে ৬০ জন, ১৯৮৫ ব্যাচের ২৮৭ জনের মধ্যে ১২১ জন এবং ১৯৮৬ বাচের ২০৪ জনের মধ্যে ১১৫ জন পদোন্নতি পান। বাকিদের মধ্যে ১৯৮২ ব্যাচের একজন এবং বিশেষ ব্যাচের দুই জন। এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৮৬ জন এবং অন্যান্য ক্যাডারের ৪০ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ দফায় ব্যাচ ভিত্তিক বঞ্চিত কর্মকর্তার মধ্যে ১৯৮৪ ব্যাচের ৬৬ জন, ১৯৮৫ ব্যাচের ১৬৬ জন এবং ১৯৮৬ ব্যাচের ৯৯ কর্মকর্তা রয়েছেন। এ ছাড়া ১৯৮২ বিশেষ ব্যাচের ২১ জন এবং ১৯৮২ ব্যাচের দুইজন কর্মকর্তা এখনো উপ-সচিব রয়ে গেছেন। যদিও এ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তাই এখন সচিব।
প্রসঙ্গত, এ সরকারের বর্তমান মেয়াদে ১৮ জুলাইয়ের আগে যুগ্ম-সচিব পদে তিন দফায় ৪১৫ জন পদোন্নতি পান। এর মধ্যে ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ৮৬ জন, সাত সেপ্টেম্বর ১৬৩ জন এবং ২১ নভেম্বর ১৬৬ জন।
অন্যদিকে এ সরকারের সময়ে তিন দফায় উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পান ৭৬৭ জন। এর মধ্যে ২০০৯ সালের সাত সেপ্টেম্বর ২৮০ জন এবং ২০১০ সালের ১৫ অক্টোবর ২৯৮ জন। প্রথম দফায় নবম ও দশম ব্যাচের এবং দ্বিতীয় দফায় ১১তম এবং ১৩তম ব্যাচের ১৪ জনসহ ২৯৮ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। সর্বশেষ গত ১৪ মার্চ ১৮৯ কর্মকর্তাকে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এখন উপ-সচিব পদে ৩২৭ সিনিয়র সহকারী সচিব পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলছে, অনেকের প্রয়োজনীয় নম্বর, দুর্নীতি ও শৃংখলা সংক্রান্ত তথ্য নেতিবাচক হওয়ায় তাদের পদোন্নতি দেয়া সম্ভব নয়।
