ক্লোন করে একই প্রাণীর মতো হুবহু আরেকটি প্রাণীর জন্ম দেওয়ার কাজটি বিজ্ঞানীরা বহু আগেই করে দেখিয়েছেন। তবে নানা আলোচনা-সমালোচনার কারণে কখনোই আলোর মুখ দেখেনি মানব ক্লোনিং। এমনকি এ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার ওপরও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সংশয় রয়েছে এ ধরনের কোনো উদ্যোগের সাফল্যের সম্ভাবনা নিয়েও। যদিও এসব কিছুই যেন আমলে আনছেন না কানাডার ডেন্টিস্ট ডা. মাইকেল জুক। এমনিতেই গেল বছরের আগের বছর রেকর্ড ৩০,০০০ ডলারে বিটলস্ এর কিংবদন্তিতুল্য সংগীতশিল্পী জন লেননের একখানা দাঁত নিলামে কিনে শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। আর এবার সেই দাঁতের মধ্য থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে তা দিয়ে লেননের ক্লোন তৈরির ঘোষণা দিয়ে এর চেয়েও বড় সংবাদের ঘোষণা দিয়েছেন ডা. জুক। শুধু তাই নয়, তার এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে আগ্রহীদের প্রতিনিয়ত হালনাগাদ রাখার লক্ষ্যে তৈরি করেছেন একটি ওয়েবসাইটও। মজার বিষয় হলো, জন লেননের দাঁতটি রেকর্ড পরিমাণ অর্থ দিয়ে কেনার সময়েই ডা. জুক বলেছিলেন যে আর সবার কাছে এটি পাগলামি মনে হলেও আমার জন্য এটা দারুণ একটা বিষয়। তবে সেই দারুণ বিষয়টা যে কতটা চমকপ্রদ হতে পারে তার একটা প্রমাণই জুক দিলেন দুই বছর পরের এই ক্লোন করার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগ সম্পর্কে জুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে বলতে গেলে ক্লোন করার জন্য লেননের শরীরের খুব ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটি অংশই আছে। কাজেই এটি দিয়ে লেননের সম্পূর্ণ ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আমি বেশ চিন্তিত ও উত্তেজিত। তবে আমি দৃঢ়ভাবেই বিশ্বাস করি যে এটি অসম্ভব নয়।’ এদিকে এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে যেয়ে মোটেও আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু শোনাতে পারেননি এ ধরনের বিষয় নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা। তারা এটিকে প্রায় অসম্ভব বলেই জানিয়েছেন এবং এতে সফল হওয়ার সম্ভাবনাকেও একরকম উড়িয়ে দিয়েছেন। উল্লে¬খ্য, সর্বকালের সেরা সংগীতজ্ঞদের একজন হিসেবে স্বীকৃত লেনন ১৯৮০ সালে এক আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। আর যে দাঁত নিয়ে এত আলোচনা সেই দাঁতটি ১৯৭০ সালে লেনন তার এক গৃহকর্মীকে দিয়েছিলেন।
