উপকূলীয় এলাকা জিয়ানগরকে তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে কচা ও বলেশ্বর নদ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এলাকার অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষগুলো মাছ ধরে জীবিকানির্বাহ করে থাকেন। আর নদীতে ও সাগরে মাছ থাকা না থাকার উপরে নির্ভর করে এই মানুষগুলোর জীবন ও জীবিকা। এ বছরের ইলিশ মৌসুমের প্রথম দিকে নদী ও সাগরে তেমন একটা ইলিশের দেখা মেলে নাই। ফলে মলিন ছিল এই জনপদের জেলেদের মুখ। ঈদ আনন্দ থেকেও বঞ্চিত হয়েছেন তারা। কিন্তু বর্তমানে বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির সাথে গভীর সাগর থেকে স্বভাবসুলভভাবে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ইলিশের ঝাঁক। ধরা পড়ছে জেলেদের জালে। এখন জেলেদের কাছে দিন আর রাত নেই। জোয়ার-ভাটার সাথে মিল করে নেমে পড়ছেন জাল নৌকা নিয়ে কচা নদী ও বলেশ্বর নদে। আর জেলের জালে ধরা পড়ছে রূপালী ইলিশের ঝাঁক। তাই যেন খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে এখানকার জেলে পল্লীতে। ইলিশ মৌসুমের শুরুতে মহাজন ও আড়ত্দারদের কাছ থেকে দাদন ও কেউ কেউ জমিজমা বন্ধক রেখে ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গোছগাছ করেন। সব জেলেই কম-বেশি ইলিশ পাচ্ছেন তাদের জালে। আর ইলিশ বিক্রির টাকা দিয়ে পরিশোধ করছেন তাদের ধার-দেনা। এছাড়া এই এলাকা থেকে যে সকল জেলে বঙ্গোপসাগরে গিয়েছেন ইলিশ শিকার করতে তারা কেউ খালি হাতে ফেরেনি।
