আকাশ সংস্কৃতির এই যুগে এসেও ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ দেখিয়ে সংসার চালাচ্ছেন মোশারফ হোসেন। জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে কালের আবর্তে বিলুপ্ত প্রায় এ বিনোদন মাধ্যমকে টিকিয়ে রেখে মেলায় মেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন মোশারফ হোসেন। আগের মত আয়-রোজগার না হলেও এ পেশাকেই ভালবেসে আঁকড়ে ধরে আছেন তিনি। আগে গ্রাম বাংলায় নানা উত্সব ও উপলক্ষকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বসত গ্রামীণ মেলা।
এসব মেলার বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল পুতুল নাচ। দু’এক স্থানে গ্রামীণ মেলা বসলেও সেসব মেলায় দেখা যায় না পুতুল নাচ। নিকট অতীতেও গ্রামের মানুষ মেলায় গিয়ে পুতুল নাচ দেখে খুব মজা পেত। ছোট ছোট পুতুলের নৃত্যের মধ্য দিয়ে বিনোদনের পাশাপাশি তুলে ধরা হত দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য। পুতুল নাচে ভানুমতির কাহিনী ও বিভিন্ন শিশুতোষ দৃশ্য দেখানো হত পুতুলের মাধ্যমে। কালের আবর্তে নানা প্রতিকূলতায় আজ এসব হারিয়ে যেতে বসেছে। বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী বিনোদন মাধ্যমকে আজও যারা টিকিয়ে রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন উদান খালি গ্রামের দি-আজাদ পুতুল নাচের মালিক মোশারফ হোসেন।
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকগৌরী হাট মেলাতে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপ করতে গিয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে তিনি তার বাবার কাছ থেকে পুতুল নাচ দেখানো পেশা শিখেছিলেন। এ পেশাকে ধরেই তিনি এখনো তার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে আছেন।
