দেড়শ’ সাবেক সশস্ত্র কর্মকর্তা নামছেন নৌকার পক্ষে

সাজাপ্রাপ্তদের নেতৃত্বের অধীনে চলে গেছেন কামাল হোসেনরা ------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ০১:০৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল হোসেন এবং সুশীল সমাজের কিছু সদস্যের বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলানোর কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নেতৃত্বের অধীনে চলে গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার গণভবনে সশস্ত্র বাহিনীর দেড় শতাধিক সাবেক কর্মকর্তার আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের ড. কামাল হোসেন সাহেবসহ যে সুশীল বাবুরা এক জায়গায় হয়ে গেছেন সবাই অনেক নীতির কথা বলে, তাদের সেই নীতি কোথায় গেল? কার অধীনে আজকে তারা মনোনয়ন নিচ্ছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এক সময় আইনকেই মানেনি তাদের কাছ থেকে মনোনয়ন নিয়ে তারা নাকি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। তারা জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাস দূর করবেন এবং দেশকে নাকি উন্নত করে দেবেন।’ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নৌকার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্যে দেড় শতাধিক সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল ওয়াদুদ, রিয়ার এডমিরাল (অব.) হারুনুর রশীদ, এয়ার কমোডোর (অব.) কাজী দেলোয়ার হোসেন এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ডা. কানিজ ফাতেমা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং বি এম মোজাম্মেল হক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাগণ ফুলের তোড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। এর মধ্যে ১০৯ জন সেনাবাহিনীর, ১৯ জন নৌ-বাহিনী এবং ১৮ জন বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা আমাকে দুর্নীতিবাজ বলে বক্তৃতা দিয়েছে, তাঁরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কথা বলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, আজকে সব ভিড়েছে গিয়ে কোথায়? গণতন্ত্র রক্ষা করতে, গণতন্ত্রের অভাব কোথায়? এই বিএনপি’র আমলেই দেশ পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। যে দলের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারায় আছে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হলে তারা দলের সদস্যও হতে পারবে না। কাজেই যারা দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত, এতিমের অর্থ আত্মসাত্কারী, ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের জন্য সাজাপ্রাপ্ত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সাজাপ্রাপ্ত সেই মানুষের নেতৃত্বে চলে গেছেন আমাদের এই সুশীল বাবুরা, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে, এটা বাংলাদেশের এক দুর্ভাগ্য। তিনি এ সময় গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি প্রশ্ন তুলে বলেন, তারা কোন গণতন্ত্র দিতে চায়, তাঁর সংজ্ঞাটি কি? এটা নিশ্চয়ই জনগণের গণতন্ত্র নয়।

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কথা বলতে চেয়েছিল এবং তারা যতবার চেয়েছে, আমরা সংলাপ করেছি। আমরা নির্বাচনের একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই তা করেছি।’ এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে সবসময় যারা ষড়যন্ত্র করে তাদের সম্পর্কে আপনাদের সদা সতর্ক থাকতে হবে।’

অন্যান্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করেছে

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা বক্তব্য রাখেন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য বিভিন্ন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সামরিক বাহিনীর উন্নয়নে বিভিন্ন কাজ করেছেন।’ অন্য বক্তারাও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে আবার ক্ষমতায় রাখতে কাজ করার অঙ্গীকার করেন এবং সবাই হাত তুলে সমর্থন দেন।

 সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল তিনজন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ১৮ জন, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ১৯ জন, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ৭ জন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ২০ জন। এছাড়াও অবসরপ্রাপ্ত মেজর রয়েছেন ৩৫ জন। তাছাড়া ক্যাপ্টেন ও লেফটেন্যান্ট পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও রয়েছেন। নৌবাহিনীর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল ২ জন, অবসরপ্রাপ্ত কমডোর ৭ জন, অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ৬ জন, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ১ জন, অবসরপ্রাপ্ত ই ক্যাপ্টেন ৩ জন। বিমানবাহিনীর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ১ জন, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডোর ২ জন, অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন ৮ জন, অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার ৭ জন।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ, মেজর জেনারেল জি এইচ মোর্শেদ খান, মেজর জেনারেল কাজী আশফাক আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন সাদেক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আলী মণ্ডল, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী, মেজর জেনারেল শিকদার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহমুদুল হক, মেজর জেনারেল আলাউদ্দিন মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, লে. জেনারেল আব্দুল ওয়াদুদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবুল হাসিম খান, লে. জেনারেল মোল্লা ফজলে আকবর, মেজর জেনারেল মো. রফিকুল আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এইচ সালাহউদ্দিন, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুর রশীদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. রকিবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুল হক, মেজর জেনারেল আশরাফ আবদুল্লাহ ইউসুফ, মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন, লে. কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাবিবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সেলিম, মেজর জেনারেল মো. আবুল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম ইকবাল হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নুরুল বশীর, মেজর জেনারেল মো. আব্দুস সালাম খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নজরুল ইসলাম সরকার, মেজর জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস, মেজর জেনারেল কাজী ফকরুদ্দিন আহমেদ, মেজর জেনারেল মো. জাহিদুর রহমান, লে. জেনারেল সাব্বির আহমেদ, মেজর জেনারেল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মিয়াজী, মেজর জেনারেল হারুনুর রশীদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহ্ মো. মহিউদ্দিন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম শফিউল মাওলা প্রমুখ।

সাবেক নৌ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- রিয়ার অ্যাডমিরাল আবুল কালাম মোহাম্মদ আজাদ, রিয়ার অ্যাডমিরাল হারুন-উর- রশীদ, কমোডোর ওবায়েদুল হক, কমোডোর এম জিয়াউল আহসান, কমোডোর আব্দুল মমিন মিয়া, ক্যাপ্টেন এম শাহাদাত হোসেন, রিয়ার অ্যাডমিরাল এএসএম আব্দুল আওয়াল প্রমুখ। সাবেক বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এয়ার ভাইস মার্শাল কাজী নজরুল হক, এয়ার কমোডোর কাজী দেলোয়ার হোসেন, এয়ার কমোডোর মোস্তাক আহমেদ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, উইং কমান্ডার কাজী মুনিরুল ইসলাম প্রমুখ।