শিশুশ্রম বন্ধে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৯
‘বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ এ অনুস্বাক্ষরের গুরুত্ব’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, শিশুশ্রম বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী একটি শিশুকেও তার জীবিকা নির্বাহের জন্য কোন প্রকার শ্রমে নিয়োজিত করার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের কারণে শিশুরা শ্রমে জড়িত হয়ে থাকে। তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন আইন ও নীতিমালায় বয়সের বিভিন্নতার কারণে শিশুদের শ্রম থেকে নিরসন করা সম্ভব হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার ইস্কাটনের বিয়াম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভুঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোরামের পরিচালক আব্দুস সহিদ মাহমুদ। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মিকাইল শিপার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুস্বাক্ষরের জন্য যথাযথ প্রেক্ষাপট তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার শিশুশ্রম নিরসনে একটি নীতিমালা তৈরি এবং এর বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। ইতিমধ্যে সরকার ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের চূড়ান্ত তালিকা ও শিশু আইন ২০১৩ অনুমোদন করেছে। কিন্তু নীতিমালায় গৃহীত হওয়া মানেই শিশুশ্রম নিরসন নয়। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অভিভাবক ও মালিক উভয়ই শ্রমে শিশুদের নিয়োজিত করে। কাজেই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শিশুশ্রম বন্ধ করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করাসহ বাধ্যতামূলক শিক্ষার প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ অতিথি গুড নেইবরস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুং হুং লী বলেন, শিশুশ্রম বা শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শিশুদের অধিকারগুলোকে নৈতিক দিক থেকে বিবেচনা করতে হবে। টেরে ডেস হোমস-নেদারল্যান্ডস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মাহমুদুল কবীর বলেন, শিশুশ্রম সংক্রান্ত এই কনভেনশনের সাথে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে দারিদ্র্যের কারণেই শিশুরা শ্রমের সাথে যুক্ত হচ্ছে। কাজেই শিশুদের জন্য আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে শিশু অধিকার ফোরামের চেয়ারপারসন এমরানুল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের গৃহীত নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক সনদের মাধ্যমে গৃহীত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত প্রচেষ্টা। প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে কাজ করতে সক্রিয় হলে আইএলও কনভেনশন ১৩৮ অনুস্বাক্ষর এবং এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের উদ্যোগ সফল হবে।