সিরিয়ায় বুধবার গ্যাস হামলার মাধ্যমে চালানো ‘গণহত্যার’ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রিটেনসহ ৩৭টি দেশ। তারা এই ঘটনার কঠোর ‘জবাব’ দেয়ার জন্য গোটা বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ফ্রান্স বলেছে, সিরিয়া যদি সত্যিই এই রাসায়নিক হামলা চালিয়ে থাকে তবে আন্তর্জাতিক মহলের শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিউত্তর দেয়ার বিষয়টি ভাবা উচিত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন ফেবিয়াস গতকাল বৃহস্পতিবার তার দেশের এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে, হোয়াইট হাউসও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়ায় গ্যাস হামলায় ১৩শ’ জন নিহতের খবর সঠিক কি না তা বের করার জন্য। ফ্রান্স, ব্রিটেন এবং তুরস্ক যৌথভাবে জাতিসংঘের কাছে কঠোর জবাব দেয়ার আহ্বানও জানিয়েছে। ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ব্রিটেন এবং অপর ৩৬টি দেশ জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের কাছে রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে অভিযোগ জানিয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিক সমাধানই সবচে ভালো। কিন্তু সিরিয়ার নিরপরাধ লোকজনকে বাঁচানোর জন্য যেকোনো পদক্ষেপে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, বর্তমানে দামেস্কে অবস্থানরত জাতিসংঘ পরিদর্শকদের রাজধানীর পার্শ্ববর্তী যেসব স্থানে সিরীয় সরকার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে সেখানে যাবার অনুমতি দিতে হবে। বুধবার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের ১৩ শতাধিক মানুষ হত্যার প্রেক্ষাপটে বিরোধী শিবির সরকারের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তোলার পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পৃথকভাবে এ আহবান জানিয়েছে। যদিও সিরিয়া সরকার এ অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক উপ-পরিচালক হাসিবা হাজ সাহরাওই বলেন, ‘সিরিয়া কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই অবিলম্বে জাতিসংঘ টিমকে পূর্ব গোতা ও অন্যান্য স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে। সাহরাওই বুধবার বলেন, ‘জাতিসংঘ পরিদর্শক দলকে এসব স্থান এবং রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে এমন সব স্থানে তদন্ত করার নির্বিঘ্ন প্রবেশাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, এ অভিযোগ সত্য হলে ওইসব হামলা হবে যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি সিরীয় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতে উত্থাপনের আহবান পুনর্ব্যক্ত করেন।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, তারা তাদের স্টাফ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে যে বর্ণনা দিয়েছে তা রাসায়নিক গ্যাস ব্যবহার পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে যায়। এইচআরডব্লিউ’র মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জো স্টর্ক বলেন, গোবায় বিপুলসংখ্যক লোক মারা গেছে। চিকিত্সক ও প্রত্যক্ষদর্শী যে বীভত্স বর্ণনা দিয়েছেন তাতে এটি রাসায়নিক অস্ত্র হামলা বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। কিন্তু সরকার বলছে, তারা তা করেনি। স্টর্ক বলেন, ‘গোতায় সত্যিকারভাবে কি ঘটেছে তা বের করার একমাত্র উপায় হলো জাতিসংঘ পরিদর্শকদের সেখানে প্রবেশাধিকার দেয়া।’
