অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস অত্যন্ত কৌশলী রাজনীতিবিদ। তবে তিনি রাজনীতিবিদদের পোশাক পরতে চান না। অধ্যাপক ইউনূস নিজেই গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছেন। এজন্য তিনি দেশে-বিদেশে অসত্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। যা সম্পূর্ণভাবে নীতি বিবর্জিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস বা ভেঙ্গে ১৯ টুকরো করার কোন ইচ্ছা বা উদ্যোগ বর্তমান সরকারের নেই। বরং ব্যাংকটি যাতে আরো ভালোভাবে চলে সরকার সে ব্যবস্থাই করছে। অর্থমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে এক জরুরি প্রেসব্রিফিংয়ে একথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক ইউনূস গত দুই বছর ধরে গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। এজন্য তিনি ভিত্তিহীন নানা অভিযোগ করে অনবরত বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমে বললেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করে মহিলাদের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। আরো বললেন, গ্রামীণ ব্যাংকে যে আমানত আছে তা সরকার খেয়ে ফেলবে। তার এসব মিথ্যা প্রচারণা গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের একটি ষড়যন্ত্র। এখন আবার তিনি দেশে-বিদেশে প্রচারণা চালাচ্ছেন যে, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংস করতে চাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, গত জুন মাসে আমি সংসদেও স্পষ্ট করে বলেছি গ্রামীণ ব্যাংকের কোন ক্ষতি করার ইচ্ছা সরকারের নেই। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৮৩ সালে সরকারই সমুদয় অর্থ দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে অধ্যাপক ইউনূসকে ব্যাংক পরিচালনার দায়িত্বে নিযুক্ত করে। ১৯৯৯ সাল থেকে ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার অবস্থানটি আইনসম্মত ছিল না। ফলে বর্তমান সরকার একটি রিভিউ কমিটি নিয়োগ করে। মন্ত্রী বলেন, ওই সময় আমি প্রস্তাব দেই যে অধ্যাপক ইউনূস পদত্যাগ করলে তাকে ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। কিন্তু তিনি প্রস্তাব দেন, তাকেই চেয়ারম্যান বানাতে হবে। পরে আদালতের রায় অনুযায়ী তিনি পদত্যাগ করেন। আর এরপর থেকেই তিনি ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার নানা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস যে বক্তব্য দিয়েছেন এটা একান্তই তার নিজের মত। এ নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আর ফিরবে না দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। প্রেস ব্রিফিংকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি প্রমুখ।
