বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। এখন যারা মুজিব কোট পরে ঘুরে বেড়ায় তারা মূলত এই কালো কোটের অমর্যাদা করছেন। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে নিজের কাছে সযত্নে রক্ষিত বঙ্গবন্ধুর দেয়া কালো কোটটি পরতে এখন আমার লজ্জা হয়। তিনি বলেন, গণমাধ্যমসহ সবার সামনেই আমি একথা ঘোষণা করছি যে, প্রচলিত রাজনীতি আমি করছি না। কারণ আমি বা আমার দলের কেউ কোনো ধরনের ধান্ধাবাজি, টেন্ডারবাজি বা প্রতারণার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এদেশের জনগণ আইনের শাসন কিংবা স্বাধীন বিচার বিভাগ কিছুই পায়নি। এগুলো কোনো সংশোধনের ব্যাপার নয়, এগুলো যেকোনো স্বাধীন দেশের প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বেসরকারি সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান ও সংস্কার ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন। সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যাতে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধানে বিভিন্ন রকম সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। কিন্তু এখন রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের ইচ্ছার কোনো মূল্য নেই। দুই দলের রাজনীতি আজ জনগণকে মূল্যহীন করে দিচ্ছে। এখন সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেটা কোন্ সংবিধান ? নিজেদের সুবিধামতো তড়িঘড়ি সংশোধনের মাধ্যমে যে সংবিধান দাঁড় করানো হয়েছে, সেটা তো জনগণের সংবিধান নয়।
কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, জনগণের চেয়ে সাহসী এই পৃথিবীতে আর কেউ নেই। নেতারা বিফল হলে জনগণ তাদের কথা বলা শুরু করবে। তারা তাদের পাওনা ঠিকই আদায় করে নেবে।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যে অবস্থা বিরাজমান, তাতে দুটি দল ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক শক্তি থাকছে না। কোনো আঞ্চলিক বা প্রান্তিক দলও নেই। সে কারণেই মানুষ এক ধরনের জিম্মিদশার কবলে পড়েছে।
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশে এখন যে সংকট চলছে তার জন্য বর্তমান সরকারই দায়ী। কারণ, তারা ক্ষমতায় থাকাটাকে দীর্ঘায়িত করতে চায়। এ জন্য তারা একটি বিশেষ ব্যবস্থায় নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসার চেষ্টা করছে। কিন্তু গণতন্ত্র মানলে এটা হতে দেয়া যায় না।
রাষ্ট্র বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান সংকট নিয়ে জনগণ শংকিত এটা ঠিক, তবে বাংলাদেশে এ ধরনের সংকট নতুন নয়। গড়ে প্রতি পাঁচ বছর পরপরই আমরা এটা দেখছি। গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো সঠিকভাবে করা হয়নি বলেই এ অবস্থা ঘুরেফিরে আসছে।
সুজন সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকার, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, সাংবাদিক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।
