দ্বিতীয় দিনেও অবরুদ্ধ জাবি উপাচার্য

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৪
পদত্যাগ দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আবারো সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন। এদিকে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখাকে অযৌক্তিক ও অনৈতিক অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বরাবর সংকট নিরসনের আবেদন জানিয়েছেন বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ‘শিক্ষক মঞ্চ’। উপাচার্যের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘সাধারণ শিক্ষক পর্ষদ’ ব্যানারে শিক্ষকরা। বুধবার সকাল ১১টা থেকে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য। বুধবার সারা রাত ও গতকাল পুরো দিন উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। অবরুদ্ধ থাকলেও বাসা থেকে পাঠানো খাবারই গ্রহণ করছেন উপাচার্য। চিকিত্সকরাও সার্বক্ষণিক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। ইতিমধ্যে সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিতে রাষ্ট্রপতি বরাবর পাঠানো চিঠিতে উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন উল্লেখ করেন, ‘উদ্ভূত সংকট নিরসনের জন্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সাথে সাথে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা নির্ণয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর ৫১ ধারানুযায়ী মহামান্য চ্যান্সেলরকে জরুরি ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের অনুরোধ জানাচ্ছি’। গতকাল দুপুর ১টায় ভিসি অবরোধকে অনৈতিক উল্লেখ করে বামপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক মঞ্চর পক্ষে অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের আরো দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার স্বাভাবিক রক্ষার স্বার্থে চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতির কার্যকর উদ্যেগ গ্রহণের কামনা করছি’। বিকাল ৩টায় উপাচার্যপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাধারণ শিক্ষক পর্যদ’ এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা প্রো-ভিসিদ্বয়কে লাঞ্ছিত করে এবং ভিসিকে অবরুদ্ধ করে হাইকোর্টের নিদের্শনাকে সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছেন। তারা আন্দোলনকারীদের এ হটকারী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে বিকাল ৫টায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শনি, রবি ও সোমবার সর্বাত্মক ধর্মঘট। এর মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’-এর আবহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ হানিফ আলী। উপাচার্য আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর গণতান্ত্রিক চেতনার বিরোধী। নির্বাচিত ভিসি হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকরা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। উল্লেখ্য, শিক্ষক লাঞ্ছনার বিচার না করা, ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়ম, মিডিয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য, জীববৈচিত্র ধ্বংস, অযোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা, অমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির ১২টি অভিযোগে তোলে প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করছে ‘সাধারণ শিক্ষক ফোরাম’।