ভারত ও আসিয়ান বাণিজ্য অগ্রগতিতে অর্থনীতি এগোবে উত্তর-পূর্ব ভারতে

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:২৫
আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সক্রিয় নয়াদিল্লি। তার অন্যতম কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মন্দার কবলে ঝিমিয়ে পড়া বাজার ভারতের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্য ভাল মতোই আটকে গিয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজন নতুন রপ্তানি বাজার। আর সেজন্যই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় রপ্তানি বাজার তৈরিতে মরিয়া কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আর সেই লক্ষ্যেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে উঠে-পড়ে লেগেছে ভারত। ভারতের সঙ্গে আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর বাণিজ্য সম্পর্ক বৃদ্ধিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের অর্থনীততেও বিশাল পরিবর্তন আসার সুযোগ রয়েছে। এমনটাই মনে করছে আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে সানমুগাম ও ভারতের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রীর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যে বৈঠকে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্র সিঙ্গাপুরের সঙ্গে বাণিজ্য আরো সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে আলোচনা করা হয়। মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের আসামের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে এই দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হবে বলে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা করা হয়। বৈঠকের পর সানমুগাম বলেন, ‘বেশ ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে আমাদের মধ্যে। এতে আমরা উভয় পক্ষই বেশ খুশি। উপলব্ধি করতে পেরেছি, ভারত ও আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্যবসা বৃদ্ধিতে স্থল ও জল যোগাযোগ ব্যবস্থার আরো বেশি সম্প্রসারণের প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে আসামের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।’ সানমুগাম আরো বলেন, ভারত যদি তার ‘পূর্বে তাকাও’ নীতিকে আরো বেশি এগিয়ে নিতে চায় তাহলে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে আসিয়ানের ভূমিকা। সেক্ষেত্রে ২০১২ সালের ডিসেম্বরে আসিয়ান সম্মেলনের সময় ভারত যে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল, সেই ভূমিকাই আগামীদিনে আরো বেশি করে নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে- এই মুহূর্তে ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। শুধু তাই নয়, ভারত ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে দু’টি দেশের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে ব্যবসায়িক সম্পর্কের পরিমাণ। বৈশ্বিক মহামন্দার কারণে এমন পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ইদানীং খুব কম দেশের মধ্যেই ঘটছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান, ২০০৪ সালে সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার; সিঙ্গাপুরে ভারতের বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি আর ভারতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ছিল অনুল্লেখযোগ্য। কিন্তু মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর ভারতে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগের পরিমাণই দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জুলাই, এই সময়ে ভারত ও আসিয়ানভু্ক্ত দেশগুলোর মাঝে বাণিজ্যের পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে বাণিজ্যের পরিমাণ দাাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে। আর এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সানমুগাম এবং এ নিয়ে তিনি দারুণ আশাবাদী। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন যে, যদি ভারত ও আসিয়ান দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে ২০১৫ সালের মধ্যে ভারত ও আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ‘সামগ্রিক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার’ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক অর্জন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রমুখ দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো উভয়ই সমস্ত দেশ থেকে লাভবান হবে। উপরন্তু এই সামগ্রিক আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাতাবরণে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। সচরাচর যা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে এর আগে আসিয়ানের বিভিন্ন দেশের মধ্যে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে পারস্পরিক মতানৈক্য ছিল তাও কেটে যাবে বলে মনে করেন সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কারণ বাণিজ্য সম্পর্ক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দূরত্ব কমে আসবে। তাই আগামীদিনে ভারত ও আসিয়ানের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, রসায়ন, অবকাঠামো ইত্যাদি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের পথ আরো সুগম হবে বলে মনে করেন তিনি। যার লক্ষণ এরই মধ্যে দেখা যাচ্ছে। — ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউন অনুসরণে