চট্টগ্রামে জলকচু চাষ

স্বচ্ছলতা ফিরেছে অনেকের

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ১৯:২৬
আমাদের দেশের উত্পাদিত সবজির মধ্যে জলকচুর বেশ কদর রয়েছে। সারা বছর ধরে জলকচু পাওয়া গেলেও নির্ধারিত মৌসুমে জলকচু বেশি পরিমাণে উত্পন্ন হয়ে থাকে। আমাদের বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় জলকচুর চাষ হলেও চট্টগ্রামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জলকচুর চাষ করা হচ্ছে। সরেজমিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে জলকচু চাষ করে অনেক পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানাধীন হাজী পাড়া এলাকায় ব্যাপকভিত্তিতে সারা বছর জলকচুর চাষ করা হচ্ছে। এখানকার জনকচুর চাষি নুরুল আবছার বলেন “আমি গত পাঁচ বছর ধরে হাজী পাড়া এলাকায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে জলকচুর চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। জলকচুর চাষ এবং উত্পাদন পদ্ধতি সহজ হওয়ায় জলকচুর চাষে আগ্রহী হই। তাছাড়া জলকচুর চাষে তেমন পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না। বিধায় অল্প পুঁজির অধিক লাভবান হওয়ায় অনেকেই জলকচু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন “যদিও আগে জলকচু সীমিত আকারের চাষ হত। এখন জলকচুর চাষ লাভ হওয়ায় কৃষিবাদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। প্রতি এককানি জমিতে (২০ গণ্ডায় ১ কানি) ৪ থেকে ৫ হাজার কচুর চারা রোপণ করা যায়। এজন্য খরচ পড়বে আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা। মাত্র ৪ থেকে ৫ মাসের মধ্যে জলকচুর ফলন পাওয়া যায়। কচুরলতি, কচুর ফুল, কচুর শাক, মূল কচু বিক্রি করে কানি প্রতি আয় হয় ৩০ হাজার ৩৫ হাজার টাকা। এতে কানি প্রতি লাভ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। জলকচুর চারা রোপণের ৪৫ থেকে ৭৫ দিনের মধ্যে জলকচুর লাভ তোলা যায়। চারা রোপণের ১৪০ থেকে ১৭০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কচুর ফলন পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত নীচু জলাবদ্ধ জমিতে জলকচু চাষের জন্য উত্তম স্থান। বিশেষ করে পরিত্যক্ত জমিতে জলকচুর বেশি চাষ করা হয়। দো-আঁশ, এটেল মাঠিতে জলকচুর ফলন ভালো হয়। ছায়াযুক্ত স্থানে জলকচুর ফলন ভালো হয় না। জলকচুর চাষে তেমন কোন ঝামেলা নেই। জলকচু চাষের আগে নির্ধারিত জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি প্রবেশ করিয়ে চাষ দিতে হয়। তারপর জমিতে পরিমাণমত গোবর এবং সার প্রয়োগ করতে হবে। জমি তৈরি হলে সারিবদ্ধভাবে কচুর চারা রোপণ করা হয়। জলবায়ুর চারা ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সাথে সাথে জমিতে পনির পরিমাণও বৃদ্ধি করতে হবে। তবে জলবায়ু কখনও পানির নীচে তলিয়ে যেতে দেয়া যাবে না। জলকচু পানিতে তলিয়ে গেলে পচে নষ্ট হয়ে যায়। জলবায়ু মানবদেহের বহু উপকার করে থাকে। জলকচুতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন রয়েছে। তাছাড়া জলকচু দিয়ে আমাদের দেশের গৃহিণীরা বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবার রান্না করে থাকেন। জলকচু শুধু দেশে নয় দেশের বাইরেও রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে বাঙ্গালিরা রয়েছেন সেখানে সবজি হিসেবে জলকচুর রপ্তানি হচ্ছে। সারা দেশে জলকচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্ষাকালে অন্যান্য সবজির অপ্রতুল থাকায় তখন জলকচু সবজি হিসেবে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় জলকচু চাষি সবুর বলেন “বর্তমানে আমাদের দেশে যে পরিমাণ জলকচুর চাষ হচ্ছে তা দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্তীর্ণ জলাভূমি পড়ে আছে। এসব জায়গায় জলকচুর চাষ করার উদ্যোগ গ্রহণ করলে ব্যাপকভাবে জলকচুর ফলন হত। এব্যপারে দেশের বেকার তরুণ-যুবকদের কাজে লাগানো যায়। জেলা, উপজেলা, গ্রাম, ইউনিয়ন পর্যায়ে বেকার তরুণ-যুবকদের জলকচুর চাষের ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দিয়ে পরিত্যক্ত জায়গা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে জলকচু চাষের জন্য লীজ দিতে হবে। এতে করে বেকার তরুণ যুবকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আসবে। সবজির সঙ্কট ঘুচে যাবে। বিদেশে ব্যাপকভিত্তিতে জলকচু রপ্তানি করে বাড়তি বৈদেশিক মুুদ্রা আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সম্ভাবনাময় জলকচু চাষের ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।