মাল্টি লেভেল মার্কেটিং নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩-র খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। সেখানে কেউ অনিয়ম করলে তাকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা এবং দশ বছরের সাজা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আইনটি মূলত মাল্টি লেভেল কোম্পানির স্বার্থে যাবে। তার কারণ হলো যেখানে একটি মাল্টি লেভেল কোম্পানি হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে প্রতারণা করছে আর তাদের নামমাত্র জরিমানা করা হবে মাত্র ৫০ লাখ টাকা। কী আইনের পরিহাস! এক ডেসটিনিই হাজার হাজার কোটি টাকার অনিয়ম করেছে। হাজার হাজার মানুষকে ধোঁকা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। তাছাড়া দেশে এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে রয়েছে মাল্টি লেভেল কোম্পানি। তারাও সময় সুযোগ নিচ্ছে প্রতারণা করার। ইতিমধ্যে ডেসটিনি ছাড়াও ম্যাক্সিমসহ কয়েকটি কোম্পানি কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে। আর যুবক তো বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে এখন দিব্যি আছে। গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল মানুষকে এ প্রতারকরা ফুসলিয়ে তাদের শেষ সম্বলটুকু হাতিয়ে নিয়ে উধাও হচ্ছে। আর তার সঙ্গে আঁতাত রয়েছে সরকারের সমবায় দপ্তরের। তারা সমিতি করার জন্য লাইসেন্স দেয়। আর সেই লাইসেন্স দেখিয়েই তারা পুরো দমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। যেখানে ব্যাংকে টাকা রাখলে প্রতি লাখে সর্বোচ্চ মুনাফা দেয় ১ হাজার টাকা। আর এ ধরনের মাল্টি লেভেল কোম্পানিগুলো ৩ হাজার টাকা মুনাফা দেওয়ার লোভে ফেলে সাধারণ মানুষকে।
এবার যে আইনের খসড়া করা হয়েছে তাতে প্রতারকদের প্রতারণা করা আরো সহজ হবে। তার কারণ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যদি ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় আর দশ বছরের জেল খাটতে হয় তা তো কোনো বিষয়ই নয়। যেহেতু তাদের হাতে থাকবে কোটি কোটি টাকা, টাকা খরচ করে সহজেই জেল থেকে তারা ছাড়া পেয়ে যাবে। তাই আইনের ধারাটি নিয়ে আরো গভীরভাবে ভাবতে হবে। সেটি যাতে বাস্তবতার নিরিখে এবং সময়োপযোগী করে করা হয়। দেশের মধ্যে এক ডেসটিনি যেভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে তাদের যদি এখন ৫০ লাখ টাকা জরিমানা এবং দশ বছরের জেল দেওয়া হয় তা কি বেশি হবে? মূলত এ খাতের রাঘব-বোয়ালদের সঙ্গে রাষ্ট্রের ক্ষমতাধররা জড়িত। তারাই মাল্টি লেভেল কোম্পানির অপরাধীদের বাঁচাতে এ ধরনের দায়সারা গোছের আইন তৈরিতে সহায়তা করেছে। একটি রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় যদি দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে গলদ দেখা দেয় তা সেই ক্ষমতায় থাকা দলের ওপরই বর্তায়। প্রতারকদের প্রতারণা ঠেকাতে হলে মাল্টি লেভেল কোম্পানিগুলো বন্ধ করতে হবে। এ আইনের ফোঁকর গলিয়ে তারা এখন আরো বড় ধরনের অপরাধ করতে সাহস পাবে। এমনিতেই দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এখন যদি মাল্টি লেভেল কোম্পানিগুলো ব্যাংকিং কার্যক্রম করতে বৈধতা পায় তাহলে ব্যাংকিং কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়বে। মানুষ ব্যাংকে টাকা না রেখে অধিক মুনাফার আশায় মাল্টি লেভেল কোম্পানিতে টাকা আমানত রাখবে। তাতে করে ব্যাংকিং সেক্টরে অরাজকতা নেমে আসবে এবং মানুষও প্রতারণার জালে আবদ্ধ হবে। তাই ডেসটিনির মতো চতুরদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে মাল্টি লেভেল কোম্পানি বন্ধ করা আবশ্যক। নইলে এর খেসারত সাধারণ মানুষকে দিয়ে যেতেই হবে।
মুন্সীগঞ্জ
