ছাত্রলীগ নেতার রগ কর্তন

রাবি শিবিরের ১৫ নেতা-কর্মী আটক

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫০
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ আল হাসান তুহিনের হাত ও পায়ের রগ কাটার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রশিবিরের ১৫ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এ ঘটনায় ঘটনাস্থলের আওতাধীন নগরীর মতিহার থানায় কোনো মামলা হয়নি। এ প্রসঙ্গে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবদুস সোবহান ইত্তেফাককে বলেছেন, মামলার প্রস্তুতি চলছে। তবে তুহিনের সহকর্মীরা তার চিকিত্সায় ব্যস্ত থাকায় মামলার বাদী কে হবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তাই মামলা রেকর্ডে বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এদিকে রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তুহিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ শনিবার সারদেশে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ ীয় কমিটি। এছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার দেশের সকল জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ এবং বাদ জুমা তুহিনের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অন্যদিকে তুহিনের উপর হামলার খবরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। তারা নগরীর সোনাদীঘির মোড়ে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের এটিএম বুথে হামলা ও ভাংচুরের পর আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। মতিহার থানার ওসি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষের বাসভবনের সামনের সড়কে (জোহা হল ও শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল সংলগ্ন পুকুরের দক্ষিণ পার্শ্বের মোড়ে) মোটরসাইকেল আরোহী কতিপয় শিবির ক্যাডার ছাত্রলীগ নেতা তুহিনের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় তুহিন ও তার ৪/৫ সহকর্মী সৈয়দ আমীর আলী হলে ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে মাদার বখ্শ হলের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সশস্ত্র শিবির ক্যাডাররা কয়েকটি শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় আতঙ্কে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে শিবির ক্যাডাররা তুহিনকে ধরে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তারা তুহিনকে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া ছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এসময় শিবির ক্যাডারদের গুলিতে তুহিনের সঙ্গে থাকা রাবি শাখা ছাত্রলীগের সমাজসেবা সম্পাদক শামসুজ্জামান শাওন আহত হন। খবর পেয়ে তুহিন ও শাওনকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিত্সকরা তুহিনের শরীরে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সারওয়ার জাহান, ছাত্রউপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফীন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. তারিকুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রামেক হাসপাতালে তুহিনকে দেখতে যান। পরে চিকিত্সকদের পরামর্শে তুহিনকে রাতেই ঢাকায় পাঠানো হয়। গতকাল শুক্রবার সকালে তুহিনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ও তার শরীরে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।