সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কোন্দলে জর্জরিত বরিশাল বিএনপি’র মধ্যে ঐক্যের সুবাতাস বইলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হলো না। মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তাদের সেই ঐক্যে ফাটল দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে এখন কোন্দল মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি গঠন নিয়ে ঢাকায় দলের চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। রাত ৮টা পর্যন্ত দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবদমান নেতাদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, জেলা কমিটির আহবায়ক হিসেবে এবায়দুল হক চাঁন’র নাম চূড়ান্ত হলেও যুগ্ম আহবায়ক পদ নিয়ে বৈঠকে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ও সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান’র মধ্যে তুমুল বিতর্ক হয়। বরিশাল বিএনপি’র নিয়ন্ত্রণকর্তা হিসেবে পরিচিত দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপি’র সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি কমিটি গঠন নিয়ে আবুল হোসেন খান’র পক্ষ অবলম্বন করায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বরিশাল নগরীর শীর্ষ নেতারা শিরিনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় বিতর্ক চরমে উঠেছে। উভয় শিবিরের নেতারা অনঢ় অবস্থানে থাকায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে দলের সিনিয়র নেতারা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, সদ্য সমাপ্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী এবায়দুল হক চাঁনকে জেলা বিএনপি’র সভাপতির পদ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত রাখা হয়। তখন থেকেই তিনি নিজেকে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক পরিচয় দিতে থাকেন। কিন্তু জেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে নবনির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল ও সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন বহাল থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়। জেলা কমিটির সভাপতির পদে কামালের পরিবর্তে এবায়দুল হক চাঁনকে স্থলাভিষিক্ত করলে কোনো সংকট তৈরি হতো না বলে মনে করেন এখানকার নেতা-কর্মীরা জানান। কিন্তু সিটি নির্বাচনের পূর্বেই বিলকিস জাহান শিরিনকে জেলা বিএনপি থেকে বিতাড়িত করতে আহবায়ক কমিটি গঠনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন মজিবর রহমান সরোয়ার ও তার অনুসারীরা। শেষ পর্যন্ত আহবায়ক কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। সে অনুযায়ী এবায়দুল হক চাঁনকে আহবায়ক করা হলে তেমন কোনো আপত্তি তোলেননি কেউ। কিন্তু যুগ্ম আহবায়কের পদ নিয়ে সরোয়ার ও কামালের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে এখানে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়। এরপর জেলা ও মহানগর বিএনপি’র নতুন কমিটি গঠন নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে মজিবর রহমান সরোয়ার ও আহসান হাবিব কামাল দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তাদের কোন্দলে এ পর্যন্ত ব্যাপক রক্তপাত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত উভয় নেতার অনুসারীরা হামলা-ভাংচুর করেছেন। শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালে মজিবর রহমান সরোয়ারকে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও আহসান হাবিব কামালকে জেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে পকেট কমিটি গঠন করে দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু উভয় কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদক ছাড়া আর কাউকেই গত ৩ বছরে ঠাঁই দেয়া হয়নি।
