নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসাবে দলীয় কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিএনপির কেন্দ ীয় নেতারা গতকাল শুক্রবার থেকে সাংগঠনিক সফরে মাঠে নেমেছেন। থাকবেন ঈদুল আজহা অবধি। পর্যায়ক্রমে নেতারা যাবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায়। আর ঈদুল আজহার পর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করবেন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এজন্য বিএনপির ৫৬টি সাংগঠনিক টিম গড়ে দিয়েছে হাইকমান্ড। এ টিম নেতারা সারাদেশের ৭৫টি সাংগঠনিক জেলায় সফর করবেন। সফর শেষে তারা সংগঠনের নানা দিক, সমস্যা ও নির্দলীয় সরকারের বিষয়ে জনমতের চিত্র দলের চেয়ারপারসনের কাছে জমা দেবেন।
বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের আগে এখনো যে সময় বাকি এর মধ্যে হরতাল, অবরোধের মতো লাগাতার কর্মসূচি দিলে জনগণের দুর্ভোগ বেশি হবে। যা পরবর্তী সময়ে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সেদিকে না গিয়ে এ সুযোগে দলের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্দলীয় সরকারের দাবিতে সারাদেশে জনমত বাড়াবে দলটি। আর টিমের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে যাওয়ার আগে তাদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। সে বৈঠকে সব টিমের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি হিসাবে গতকাল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর শাখার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে ৩১ আগস্টের মধ্যে ঢাকার ১৫টি স্থানে বিএনপির যৌথ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ঢাকার ৪৯টি থানা ও ১০০টি ওয়ার্ডে যৌথ কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরীতে বের করা হবে গণমিছিল।
গতকাল শুক্রবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ ীয় কার্যালয়ে বৈঠকের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ঈদুল আজহার পর আন্দোলনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আমরা আন্দোলনে আছি। এ লক্ষ্যে রাজধানীসহ সারাদেশের থানা ও মাঠ পর্যায়ে কর্মী সভা হবে। এরপর আগামী ঈদুল আজহার পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করে বিরোধী দলীয় নেতা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। ঢাকার মহাসমাবেশের দিনক্ষণ পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মহানগর আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহানগর সদস্য সচিব আবুদস সালাম, যুগ্ম আহবায়ক মো. সাহাবুদ্দিন, এসএ খালেক, কাজী আবুল বাশার, আবদুল মজিদ, এমএ কাইয়ুম, বজলুল বাসিত আনজু, মেহেরুন্নেসা, রাজিয়া আলিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের উদ্যোগে ৮ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, ১৫ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহী, ২২ সেপ্টেম্বর খুলনা, ২৯ সেপ্টেম্বর বরিশাল এবং ৫ অক্টোবর সিলেটে জনসভা হবে। এসব জনসভায় খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন। চট্টগ্রামের জনসভার তারিখও ঈদের পরে ঘোষণা করা হবে।
বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের নিয়ে গঠিত ৫৬টি টিমের বরিশাল জেলা ও মহানগর দলনেতা বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মির্জা আব্বাস তিন দিনের সাংগঠনিক সফরে গতকাল রাতে বরিশালের গেছেন।
বিএনপির ৫৬ টিমের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা মহানগর, স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার দিনাজপুর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আসম হান্নান শাহ রংপুর, নজরুল ইসলাম খান সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী জেলা ও মহানগর, তরিকুল ইসলাম যশোর, মির্জা আব্বাস বরিশাল মহানগর ও বরিশাল উত্তর, ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, নারায়ণগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বাবু গয়েশ্বর চন্দ রায়, মাদারীপুর ও শরিয়তপুর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সিলেট জেলা ও মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণে এমকে আনোয়ার, ড. আব্দুল মঈন খান ফরিদপুর, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, বেগম সেলিমা রহমান নেত্রকোনা, আব্দুল্লাহ আল নোমান ঢাকা জেলা, নোয়াখালী ও নরসিংদী, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ রাজবাড়ী, শমসের মবিন চৌধুরী হবিগঞ্জ, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কুমিল্লা দক্ষিণ, এম মোর্শেদ খান কক্সবাজার, আলতাফ হোসেন চৌধুরী ভোলা, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পিরোজপুর, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান নড়াইল, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন বরগুনা, ড. ওসমান ফারুক টাঙ্গাইল, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন, ব্যারিস্টার শাজাহান ওমর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ফেনী, মুশফিকুর রহমান লক্ষ্মীপুর, আব্দুল আউয়াল মিন্টু রাঙ্গামাটি, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বগুড়া ও পাবনা, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ, শামসুজ্জামান দুদু মেহেরপুর, ফজলুর রহমান পটল সৈয়দপুর, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান মাগুরা ও বরিশাল দক্ষিণ, মিজানুর রহমান মিনু খুলনা জেলা ও মহানগর, মো. শাহজাহান মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ, বরকত উল্লাহ বুলু কুমিল্লা উত্তর, সালাহ উদ্দিন আহমেদ চাঁদপুর, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার বান্দরবান, আসাদুল হাবিব দুলু কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা, মশিউর রহমান কুষ্টিয়া, অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী, ফজলুল হক মিলন শেরপুর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন সাতক্ষীরা, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক জামালপুর, এছাড়াও কাজী আসাদুজ্জামান গোপালগঞ্জ, আবুল খায়ের ভুঁইয়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ, হাবিব উন নবী খান সোহেল খাগড়াছড়ি, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি লালমনিরহাট, অ্যাডভোকেট হারুন আল রশিদ জয়পুরহাট, মো. হারুন অর রশিদ নওগাঁ, নিতাই রায় চৌধুরী চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাট, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নাটোর জেলার দলনেতার দায়িত্ব পালন করছেন।
