টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় চারটি ইউনিয়নের সরকারি বনাঞ্চলের বিট এলাকায় লাখ লাখ টাকার গাছ চুরি চলছেই। সরকারি গাছ অবাধে চুরি হওয়ার কারণে বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আর সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গাছ চুরি ঠেকাতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তেমন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর ও গায়রাবেতিল এলাকায় বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সরকারি গাছ চুরির মহোত্সব। টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বিশাল এলাকা জুড়ে সরকারি গজারির বনাঞ্চল রয়েছে। এসব বনাঞ্চলের বিট এলাকায় শাল, গজারি, নিম, বহেরাসহ নানা প্রজাতির মূল্যবান গাছ রয়েছে। আবার এলাকার কিছু লোকজন সরকারি বনাঞ্চলের জমি লিজ নিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন ফলজসহ নানা প্রজাতির বৃক্ষ রোপণ করেছে।
উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর বিট এলাকার মৌজায় জমি লিজ নিয়েছেন তরফপুর এলাকার ব্যবসায়ী মশিউর রহমান মহিদ। তিনি অভিযোগ করেন, সংঘবদ্ধ গাছ চোরের দল বনাঞ্চলের গাছ চুরির পাশাপাশি তার বৈধ লিজ নেয়া জমি থেকেও গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তার মত অনেক পরিবারের বৈধ গাছ-পালাও চোরের দল কেটে নিয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। গাছ চুরি বন্ধের জন্য মশিউর রহমান মহিদ গত ১৪ আগস্ট টাঙ্গাইল জেলা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা অসিত রঞ্জন পাল ছাড়াও পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক এবং বাঁশতৈল রেঞ্জের বন কর্মকতার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর পর বন বিভাগের কর্মকর্তাগণ বংশী নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সরকারি গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। বন বিভাগ ও মহিদ অভিযোগ করেন, বংশীনগর এলাকার নতুব আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন ও নাতু মিয়া এবং সোহরাব আলীর ছেলে শাজাহান আলী ও তাদের সহযোগীরা বংশীনগর এলাকায় গাছ চুরির মূলহোতা। তাদের সহযোগিতায় বাঁশতৈল, বংশীনগর, আজগানা, গায়রাবেতিলসহ বনাঞ্চলের প্রতিটি এলাকায় সরকারি গাছ চুরি হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই গাছ আমাদের জমির উপর পড়েছে বিধায় কাটা হয়েছে। কিন্তু বন বিভাগ বলেছে এটা তাদের জমি।
