বরগুনা-২ আসনে উপ-নির্বাচন

যোগ্য প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ বিএনপির আপাত:বর্জনের সিদ্ধান্ত

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৪
সড়ক দুর্ঘটনায় বরগুনা-০২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু মারা যাওয়ায় প্রার্থী সংকটে পড়েছে আওয়ামী লীগ। আসন্ন নির্বাচনে তাই যোগ্য প্রার্থী খুঁজতে হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের। সংকট সমাধানে প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর স্ত্রী মধুমতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা নাদিরা অথবা বড় মেয়ে ফারজানা সবুরকে প্রার্থী করার চিন্তা-ভাবনা করছে দলীয় হাইকমান্ড। অপরদিকে, নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত বিএনপি উপ-নির্বাচনটি বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলু গত ২৬ জুলাই মারা যাওয়ার কারণে ওইদিন থেকেই ১১০, বরগুনা-০২ আসনটি শূন্য হয়ে গেছে। ২৮ জুলাই জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগামী সপ্তাহে এ আসনটিতে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে। বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন, বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও বেতাগী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন এবং পাথরঘাটা ও বেতাগী পৌরসভা নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ১১০, বরগুনা-০২ আসনটি গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৩১ হাজার। আসনটিতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি, আওয়ামী লীগ ছাড়াও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলের তেমন কোন কার্যক্রম এখানে নেই বললেই চলে। গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বরগুনা জেলা বিএনপি’র তত্কালীন সভাপতি আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। পাশাপাশি আসনটিতে বিএনপি’র একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এদিকে, উপ-নির্বাচন হওয়ার খবরে সরগরম হতে শুরু করেছে বরগুনা-০২ আসনের (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) রাজনীতি। নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগও করছেন কেউ কেউ। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পাথরঘাটার উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত হাচানুর রহমান রিমন, বামনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ডেপুটি এটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. হারুন অর রশীদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহাজাদা আবদুল মালেক খানের ছেলে পানি ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান। তারা নিজ নিজ উপজেলায় জনপ্রিয় হলেও তাদের নিয়ে এলাকায় রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ ও মালিক ফিদা আবদুল্লাহ খান স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকার কারণে জনসম্পৃক্ততা তাদের অনেকটা কম। শওকত হাচানুর রহমান রিমন পাথরঘাটার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কিছুটা বিতর্কিত হয়েছেন। প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর সাথেও তার সম্পর্ক ভাল ছিল না। জানা গেছে প্রয়াত সংসদ সদস্য গোলাম সবুর টুলুর পরিবার থেকে কোন একজনকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে টুলুর স্ত্রী মধুমতি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা নাদিরা অথবা তার বড় মেয়ে ফারজানা সবুরকে প্রার্থী করার চিন্তা-ভাবনা করছে দলীয় হাইকমান্ড। তবে তারা নির্বাচনে আসতে না চাইলে টুলুর বড় ভাই পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট গোলাম কবিরকে বিবেচনা করা হতে পারে। অপরদিকে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনরত প্রধান বিরোধীদল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট আসন্ন উপ-নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর কোন কারণে ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে এলে বরগুনা জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. নূরুল ইসলাম মনি অথবা বিএনপি’র চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন প্রার্থী হতে পারেন। বরগুনা-০২ আসনে (পাথরঘাটা-বামনা-বেতাগী) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার হিরু উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন।