মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচলে অচলাবস্থা নিরসনে গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনেও কোন সমাধান হয়নি। যাত্রী দুর্ভোগ নিরসনে খেয়া পারাপারে সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ সি-ট্রাক নামালে লঞ্চ মালিক-শ্রমিক নেতাদের প্রতিরোধের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় লঞ্চ মালিক পক্ষের লোকজন মাওয়া বন্দর কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করে।
বিআইডব্লিউটিএ’র মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রী পারাপারে শনিবার সি-ট্রাক চলাচলের উদ্যোগ নেয়া হয়। এসময় আমজাদ, মাসুম, পিনাক-৬ এবং হানজালা লঞ্চের মালিক ও প্রতিনিধিরা তাকে লাঞ্ছিত করে। তিনি আরো জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবগত করা হলে তিনি ওই চার লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত ওই চারটি লঞ্চকে নৌ পথে চলাচল থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। একই সাথে তাদের সি-ট্রাকও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। পরবর্তীতে মাওয়া-মাঝিকান্দি নৌরুটে লঞ্চ সচল স্বাভাবিক হলেও কাওড়াকান্দির সাথে লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
মাওয়া লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সমপাদক ভাস্কর চৌধুরী জানান, গতকাল দুপুর পর্যন্ত মাওয়া ঘাট থেকে ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে গেলেও কাওড়াকান্দি ঘাটে তা আটক রেখেছে ইয়াকুব বেপারীর লোকজন।
সমস্যার সমাধানে গতকাল বিকেলে মাওয়া বন্দর কর্মকর্তার কার্যালয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সাথে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ অহিদুল ইসলাম বৈঠক করেন। কিন্তু কয়েকটি বিষয় জড়িত হয়ে পড়ায় তা ফলপ্রসূ হয়নি।
লৌহজং ইউএনও জানান, আজ রবিবার নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের সাথে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সমস্যা সমাধানে এক বৈঠক হবার কথা রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার শাহ পরান নামের একটি লঞ্চ মালিক সমিতির ছাড়পত্র না নিয়ে জোরপূর্বক চলাচল করতে চাইলে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচলে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
