প্রি মি য়া র ক্রি কে ট লি গ

দলবদল নয় খেলোয়াড় বাছাই আজ!

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৫২
ঢাকার ফুটবল ও ক্রিকেটের দলবদল এক সময় ছিল দারুণ বর্ণময় এক ব্যাপার। ঢাকঢোল বাজিয়ে, শহরময় উত্তেজনা তৈরি করে দলবদল হত। কয়েকদিন আগে থেকে পছন্দের তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে টানাটানি, কেড়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটত। শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে তৈরি করা পছন্দের দলের সব তারকাদের নিয়ে হৈ চৈ করতে করতে দলবদল অনুষ্ঠানে আসত ঢাকার ক্লাবগুলো। টাকার ঝনঝনানি বাড়লেও নানা কারণেই ফুটবল-ক্রিকেটে দলবদলের সে জৌলুস অনেকদিন ধরেই নেই। তারপরও কাগজে-কলমে অন্তত উত্তেজনাটা ক্রিকেটেও ছিল এতোদিন। এবার সেই ‘দলবদল’ নামের উত্তেজনাটাই অন্তত এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আজ ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে নিলাম বা লটারিসদৃশ একটা ব্যাপারের ভেতর দিয়ে বিলম্বিত ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের জন্য খেলোয়াড়দের বেছে নেবে ১২টি ক্লাব; এর নাম খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়া! একেবারে আনকোরা এক ফরম্যাটে আজ যে খেলোয়াড়দের নির্বাচন প্রক্রিয়া হবে, তা আসলে ঠিক কিভাবে পরিচালিত হবে; এটাও এক রহস্যের মতো ব্যাপার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে গতকাল একটা নিয়মাবলী বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠিয়ে নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু মুশকিল হল, সেই নিয়মাবলীও আজকের নিলাম বা লটারি সম্পর্কে সবকিছু পরিষ্কার করতে পারছে না। প্রিমিয়ার লিগের আয়োজক সংস্থা ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজেও একটু বিব্রত হয়ে বললেন, ‘কিছু জায়গা এখনও আমরা ঠিক পরিষ্কার না যে, কি হবে। এটা আসলে কাল ওই অনুষ্ঠানেই বোঝা যাবে। তবে ভরসা হল এটা প্রথম ও শেষবারের মতো ঘটনা তো; খুব বড় বিভ্রান্তির সুযোগ তাই থাকবে না।’ এই ভরসা নিয়েই দুপুর তিনটা থেকে শুরু হবে এই তথাকথিত দলবদল। প্রক্রিয়ার শুরুতেই প্রিমিয়ার লিগের ১২টি ক্লাবের মধ্যে লটারি করে তাদের একটা সিরিয়াল নম্বর তৈরি করা হবে; সে অনুসারে তারা খেলোয়াড় বাছাই করার সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে প্রথমেই তাদের সামনে আসবে চার খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও নাসির হোসেনকে নিয়ে তৈরি করা ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি। এই ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের দাম ২২ লাখ টাকা করে। তবে এখানে একটা ছাড় পাবে দলগুলো। কারো বাজেট কম হলে তার ভাগ্যে এই খেলোয়াড়দের কারো নাম উঠলেও সে দল পাশ কাটাতে পারবে ‘পাস’ বলে। তবে এরপর ‘এ’ থেকে শুরু করে ‘ডি’ ক্যাটাগরি পর্যন্ত ‘পাস’ বলার আর কোনো সুযোগ থাকবে না। মানে যার যার সিরিয়াল অনুযায়ী সামনে আসা খেলোয়াড়কে কিনতেই হবে। উল্লেখ্য, ১৫ লাখ টাকার ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১২ জন, ১০ লাখ টাকার ‘বি প্লাস’ ক্যাটাগরিতে ২৪ জন, ৮ লাখ টাকার ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩৬ জন, ৫ লাখ টাকার ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২৪ জন, ২.৫ লাখ টাকার ‘ডি’ ক্যাটাগরিতে ৩৬ জন এবং ১ লাখ টাকার ‘ই’ ক্যাটাগরিতে ৫৩ জন খেলোয়াড় আছেন। নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে, এর মধ্যে ‘এ’ থেকে ‘ই’ পর্যন্ত প্রতি ক্যাটাগরির কমপক্ষে একজন করে খেলোয়াড় দলে নিতেই হবে। ‘এ’ থেকে ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে মোট ১১ জন করে খেলোয়াড় দলে নিতেই হবে প্রত্যেক দলকে। আর ‘ই’ ক্যাটাগরির কমপক্ষে একজন খেলোয়াড় নিতে হবে; তবে এই শেষ ক্যাটাগরিতে আবার ‘পাস’ বলার সুযোগ থাকছে দলগুলোর জন্য। এরপরও যেসব খেলোয়াড় এই নিলামে ডাক পাবেন না, তারা ফ্রি খেলোয়াড় হিসাবে বিবেচিত হবেন, তাদেরকে যেকোনো ক্লাব সমঝোতার ভিত্তিতে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। এছাড়া লিগ চলা অবস্থায় জাতীয় দলের প্রয়োজনে যেকোনো খেলোয়াড়কে সংশ্লিষ্ট দল ছেড়ে দিতে বাধ্য থাকবে। তার বদলে ফ্রি খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে কাউকে দলে নিতে পারবে দলটি; সেক্ষেত্রে ওই খেলোয়াড় খেলার সংখ্যা অনুযায়ী টাকা পাবেন। এতোসব জটিলতার মধ্যেও আশার ব্যাপার একটিই, যেভাবেই হোক দল গঠনের ভেতর দিয়ে লিগ শুরুর একটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে এর মধ্যেও একটা কিন্তু আছে। এরই মধ্যে ক্লাবগুলো আবারও দলবদল পেছানোর দাবি জানিয়েছে। এখন দেখার বিষয় খেলোয়াড় বাছাই শেষ করেও ক্লাবগুলোর কাছে আরেকবার নুইয়ে যায় কিনা বিসিবি!