ভাঙ্গা ঘরে চাঁদের আলো

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:০৩
হোসেনপুরে রিকশাচালকের ছেলে সাদ্দাম হোসেন পেয়েছে জিপিএ-৫। কাউখালীর গোল্ডেন বালক আরিফের উচ্চশিক্ষা অনিশ্চিত। শত প্রতিকূলতার মাঝেও গৌরিপুরের ফাতেমা সুলতানা চিকিত্সক ও শিবগঞ্জের মোহাঃ জসিমউদ্দিন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের সংবাদদাতারা। হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) নিজ ঘরসহ পুরো এলাকা আলোকিত করেছে উপজেলার উত্তর ধনকুড়া গ্রামের রিকশাচালক মো.হাছেন আলীর পুত্র সাদ্দাম হোসেন। সে এইচএসসি পরীক্ষায় হোসেনপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। এসএসসি পরীক্ষাতেও সে ভাল ফল করে। কিন্তু ডাবল এ+ পেয়েও তার মুখে হাসি নেই। সাদ্দাম জানায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বাবা বর্তমানে রিকশা চালাতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ যুগিয়েছি। তার চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হওয়ার স্বপ্ন হয়ত স্বপ্নই থেকে যাবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার মত সামর্থ্য না থাকায় শুধু হতাশায় দিন কাটছে তার। গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) গৌরীপুর মহিলা ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচএসসি বিজ্ঞান শাখায় ফাতেমা সুলতানা জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার বাবা মোহাম্মদ ছায়ীদুল হক কিল্লাবোকাইনগর ফাযিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ও মাতা সুরাইয়া বেগম একজন গৃহিনী। সে ডাক্তার হতে চায়। সকলের দোয়া প্রত্যাশী ফাতেমা। শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এইচএসসিতে জিপিএ-৫ প্রা্প্ত জসিমউদ্দিন ইংরেজি বিষয়ের উপর একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু একমাত্র বাধা দরিদ্রতা। তাই সে দেশের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছে। উপজেলার দাদনচক ঢোলপাড়া গ্রামের জসিমের পিতা মোহাঃ ফজলুল রহমান দিনমজুর ও মাতা গৃহিনী। জসিম জানায়- তরিকুল স্যারের সহযোগিতায় সোনালী ব্যাংক হতে বার হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি পাওয়া আমার জীবনে একটি মাইলফলক। নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) রাক্ষুসে গঙ্গাধর পর পর ৪ বার বসতভিটা, ফসলী জমি ভেঙ্গে পরিবারকে দরিদ্র করলেও উদ্যোমে ভাটা ফেলতে পারেনি মেধাবী শিক্ষার্থী চন্দনার। দারিদ্রতাকে জয় করে একাগ্রতা, নিষ্টা দিয়ে পঞ্চম, অষ্টম শ্রেনিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি, এসএসসি ও এইচএসসিতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া উপজেলার কাটাজেলাষ গ্রামের চন্দনা রানী বর্মন চিকিত্সক হতে চায়। কিন্তু দরিদ্র বাবা বর্গাচাষী ভবেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের পক্ষে এর খরচ চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। তাই উচ্ছ্বসিত হওয়ার পরিবর্তে ভবেন্দ্র চন্দ্রের চোখে মুখে সর্বক্ষণ বিরাজ করছে হতাশা ।