বগুড়ায় জঙ্গিদের আরেক আস্তানায় আগ্নেয়াস্ত্র বোমার সরঞ্জাম

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪১
র্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃত নতুন জঙ্গি সংগঠন বিইএম-এর সদস্য তিনজনের স্বীকারোক্তিতে বগুড়ায় আরও এক জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শহরের মালগ্রামে ঈদগাহের পাশে সেই আস্তানাতে গানপাউডার, বোমা তৈরির সরঞ্জাম, আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই, পোস্টার, লিফলেট ও মুখোশ উদ্ধার করেছে। এসময় জঙ্গিদের কাউকে গ্রেফতার করা না গেলেও বাসার মালিক ও তার ছেলেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার বগুড়ায় র্যাবের হাতে যে তিন জঙ্গি গ্রেফতার হয় তাদের পুলিশে সোপর্দ করার পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের মধ্যে রুবেল (২৫) নামের একজন জানায়, বগুড়ায় আরও একটি আস্তানা রয়েছে। তার স্বীকারোক্তিতে গতকাল শনিবার বিকালে ওই আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। সদর থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ওই আস্তানা থেকে একটি রিভলবার, ৮টি ককটেল, একটি হাসুয়া, একটি রামদা, একটি চাকু, প্রায় এক কেজি গানপাউডার, বোমা তৈরির আরো কিছু সরঞ্জাম, রড, বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই, পোস্টার, লিফলেট, বৈদ্যুতিক তার ও মুখোশ উদ্ধার করে পুলিশ। কোন জঙ্গি গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে বাসার মালিক ওই এলাকার রেজাউল করিম (৪৫) ও তার ছেলে ইউসুফ আলীকে (২২) আটক করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ জানায়, জামিলনগর ও মালগ্রাম এলাকা শিবিরের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই এলাকাতেই এই আস্তানার সন্ধান পাওয়া গেলো। র্যাবের হাতে গ্রেফতার তিন জঙ্গিসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে র্যাব। র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের সহকারি উপ-পরিচালক আব্দুল আলীম বাদি হয়ে মামলা তিনটি দায়ের করেন। এরমধ্যে অস্ত্র আইনে একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি এবং হামলা ও সরকারি কাজে বাধাদানের অভিযোগে আর একটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রতিটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও অন্ততঃ ১৫ জনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ওই তিন মামলায় গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হাজির করে ১৫ দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়। গতকাল বিকেলে শুনানিশেষে আদালত তাদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।