সিনেটের মাত্র ৩৬ সদস্যের উপস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকসহ তিন জনকে নিয়ে ভিসি প্যানেল মনোনীত করা হয়েছে। এ প্যানেলের বিরোধিতা করে বিশেষ সিনেট অধিবেশন বয়কট করেছে বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষকরা। এত কম সদস্য নিয়ে সিনেট অধিবেশন ডেকে ভিসি প্যানেল মনোনীত করা অনৈতিক ও অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছেন তারা। ভিসি প্যানেলে মনোনীত অন্য দুই সদস্য হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ ও প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক সহিদ আকতার হুসাইন। এ হিসেবে সিনেটের পূর্ণ সদস্য সংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও কম সদস্যের অংশগ্রহণে এ প্যানেল মনোনীত করা হলো।
গতকাল শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে এ তিনজন মনোনীত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে প্রায় সোয়া চারটা পর্যন্ত এ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অধিবেশনে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও সিনেট সদস্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ভিসি প্যানেলের জন্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নাসরিন আহমাদ ও সহিদ আকতার হুসাইনের নাম প্রস্তাব করেন। সিনেট সদস্য মাকসুদ কামাল তা সমর্থন করেন।
গতকাল বিকালে আরেফিন সিদ্দিক জানান, অধিবেশনে উপস্থিত সকল সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে তিন সদস্যের প্যানেল মনোনীত করেছেন। রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের কাছে প্যানেল-তালিকা পাঠানো হবে। এর মধ্য থেকেই আচার্য একজনকে চার বছরের জন্য ভিসি নির্বাচিত করবেন। এ ঘোষণা যেকোনো দিনই আসতে পারে।
সিনেটের নিবন্ধন সূত্রে জানা যায়, সিনেটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫০ জন। অধিবেশনে ৩৬ জন সদস্য অংশগ্রহণ করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের পূর্ণ সদস্য সংখ্যা হলো ১০৫।
এদিকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এত কমসংখ্যক সিনেট সদস্য নিয়ে ভিসি প্যানেল মনোনয়ন’ করার এজেন্ডা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের প্রতিবাদে গতকাল সিনেট ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে বিএনপি এবং জামায়াত সমর্থক সাদা দলের শিক্ষকরা। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত অবস্থানকালে ঐ শিক্ষকরা এ প্যানেল মনোনয়নকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ‘কালো অধ্যায়’ বলে মন্তব্য করেন। গত দুই সপ্তাহ ধরে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরে সমাপ্য সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের পর এ অধিবেশন ও প্যানেল নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। এজন্য তারা আদালতে রিট আবেদন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কাছে স্মারকলিপি পেশ ও আইনী নোটিসও পাঠিয়েছিলেন।
সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, সাময়িকভাবে নিয়োগ পাওয়ার পর বর্তমান ভিসি অন্যায়ভাবে সাড়ে চার বছর কাটিয়ে দিয়েছেন। বারবার দাবির পরও তিনি ভিসি প্যানেল নির্বাচনের ঘোষণা দেননি। হঠাত্ করেই তিনি সিনেটের বিশেষ অধিবেশন ডেকে ভিসি প্যানেল নির্বাচন আয়োজন করেছেন। এটি সত্ উদ্দেশ্যে করা হয়নি। কেননা সিনেটে এর আগে ১০৫ সদস্যের মধ্যে প্রায় ৯০ জন সদস্য থাকলেও তিনি প্যানেল ঘোষণা করেননি। অথচ এখন মাত্র ৫০ জন্য সদস্য নিয়ে তিনি প্যানেল ঘোষণা করেছেন। এতে যে সত্ উদ্দেশ্য নেই, তা এ থেকেই উপলব্ধি করা যায়। তাই আমরা অধিবেশন বর্জন করছি।
সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম বলেন, নিজের অনুসারীদের ভোটে নির্বাচিত হতেই বর্তমান ভিসি তড়িঘড়ি করে ভিসি প্যানেল ঘোষণা করেছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক সৈয়দ রাশিদুল হাসান, অধ্যাপক আমিনুর রহমান মজুমদার, অধ্যাপক আবদুর রশিদ, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক বোরহান উদ্দীন খান প্রমুখ।
এদিকে সিনেট অধিবেশন চলাকালে সিনেট ভবনের বাইরে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ।
