প্রধানমন্ত্রী ৬ দিনের সফরে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৪
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে ছয়দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। ২৭ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন। এবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় সংযোজন করতে পারেন। এছাড়া এমডিজি, জলবায়ু পরিবর্তন, মাইগ্রেশন, সন্ত্রাস দমন, এলডিসি, শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা, জনগণের ক্ষমতায়ন, মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট, বিশ্বশান্তি রক্ষাসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় তুলে ধরবেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে গত ৫ বছরে দেশ পরিচালনায় সাফল্য, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দলের আন্দোলন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ এবং সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাঁর সরকারের অবস্থানের বিষয়টি বিশ্ব দরবারে তুলে ধরতে পারেন। এদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন স্বল্প পরিসরে বিকল্প কক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে এবারের অধিবেশন কক্ষে অনেক সুযোগ-সুবিধা ব্যাহত হতে পারে। প্রতিবছর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সঙ্গে ৬ জন প্রতিনিধি অংশ নেয়ার যে সুযোগ ছিল এবার তা কমানো হয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এবার নিউইয়র্ক সফরকালে তার বহর কমিয়ে ফেলতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেন শুক্রবার তার কার্যালয়ে ইত্তেফাককে জানান, ২৩ সেপ্টেম্বর এমিরেটস-এর ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে পৌঁছবেন। তবে তিনি সকালে নাকি বিকালের ফ্লাইটে আসবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী অবস্থান করবেন অভিজাত হোটেল গ্রান্ড হায়াতে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রতিবন্ধী বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিকালে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী এ বৈঠকে অংশ নেবেন না। ২৪ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন। এদিন সকাল ৯টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় উপস্থিত থাকবেন সেখানে। এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে ওবামার দেয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। একইদিন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দেয়া প্রাত: ও মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি দেশ হিসাবে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। ২৫ সেপ্টেম্বর সহস াব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আগামীর করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় এমডিজি বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার থাকবে। ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন শেখ হাসিনা। এবারের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের উল্লেখযোগ্য কিছু দিক সংযোজন করবেন। বিশেষ করে বিশ্বশান্তি, ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সন্ত্রাসমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে ১৯৭২ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু। ওই ভাষণ বিশ্বসভায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। সাধারণ পরিষদের ভাষণ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। এদিন সন্ধ্যায় তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। ছয়দিন নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যস্ত সময় কাটাবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংসহ বেশ কয়েকজন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৬৮তম জন্মদিন। আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিনের কোনো আয়োজন না থাকলেও ঘরোয়াভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেক কাটবেন তিনি। এদিকে দলীয় প্রধানকে সংবর্ধনা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে সংবর্ধনার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ ইত্তেফাককে জানান, এবার নিউইয়র্কের ৫৩ স্ট্রিটে অবস্থিত অভিজাত হোটেল হিলটনে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেয়া হবে। এবারের অনুষ্ঠান বিগত যেকোনো বছরের চেয়ে জমকালো হবে। তিনি জানান, এবারের অনুষ্ঠানেও ব্যাপক আকর্ষণ থাকবে। থাকবে সুদৃশ্য মঞ্চ। গত বছর নৌকার ওপর যেভাবে মঞ্চ সাজানো হয়েছিল, এ বছরও ব্যতিক্রম কিছু থাকবে। তবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্নভাবে মহাজোট সরকারের সাফল্য তুলে ধরা হবে। সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে।