তিন জেলায় পাঁচ খুন

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
গতকাল শনিবার দেশের কয়েকটি স্থানে পৃথক সংঘর্ষে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত ও অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি নিয়ে সংঘর্ষে পিতা-পুত্র মারা গেছেন। এছাড়া বি.বাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সৃষ্ট সংঘর্ষে এক নারীসহ ২ জন এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়ায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। এলাকাবাসী ও পুলিশের বরাত দিয়ে ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের বাবুপুর আক্তাপাড়া গ্রামে সুরজত আলীর সাথে তার ফুফাতো ভাইদের ওয়ারিশের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে সুরজত আলী ও তার ছেলেরা আমন ধানের চারা রোপণ করতে গেলে প্রতিপক্ষ আবুল কালাম ও আব্দুছ ছালাম লোকজন নিয়ে তাদের বাধা দেয়। এ সময় সুরজত আলী ও তার ছেলেরা বাড়ি হতে দা, বল্লমসহ বিভিন্ন অস্ত্র এনে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই কালাম (৫৫) ও তার ছেলে আবুল কাশেম (৩০) মারা যান। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরো অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহতদের ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত আবুল কালামের ছোট ভাই আব্দুছ ছালামের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফিরোজ তালুকদার পিপিএম জানান, জোড়া খুনের ঘটনায় থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সকালে উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নের সাইয়াউক গ্রামের খন্দকার শাহিন মিয়া ও রোকন উদ্দিনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় হারুন মিয়া (৩৫) ও ময়না বেগম (৬৫) নামে ২ জন নিহত ও নারী-শিশুসহ প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। এসময় প্রায় ১০/১২টি বাড়ি-ঘরে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের হবিগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল ও মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, বেশ কিছু বাড়ি-ঘরে আগুন ও ভাংচুর করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, হবিগঞ্জ সীমান্তবর্তী সাইয়াউক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগে গত বছরের ৩০ অক্টোবর এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন মারা যান। সেই ঘটনার জের ধরেই গতকাল সংঘর্ষ হয়। ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া হিসনা পাড়ায় ট্রলির ধাক্কা দেয়াকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জের ধরে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় ঢাল, সড়কীসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে খাইরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক মারা গেছেন। এছাড়া মহিলাসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন। আহতদের ভেড়ামারা হাসপাতাল ও কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত খাইরুল উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া হিসনা পাড়া এলাকার তসলিমের ছেলে। বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভেড়ামারা মডেল থানার ওসি রবিউল ইসলাম। দিরাই সংবাদদাতা জানান, দিরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রজনীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের দু’দল শিক্ষার্থীর মধ্যে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হাতাহাতিকে কেন্দ করে পাঁচ গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে ভাংচুর করা হয়েছে ১০ দোকান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ছুঁড়েছে। গতকাল শনিবার উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের রজনীগঞ্জ বাজারে সাকিতপুর গ্রামের লোকজনের সাথে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের টাইলা, ঠাকুরভোগ, উপ্তিরপাড় ও দুর্গাপুর গ্রামের পাঁচ শতাধিক লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।