মৃত্যুর পর ধর্মীয় রীতিনীতি পালনশেষে মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পর চিতায় তোলার মুহূর্তে নড়ে ওঠেন এক বৃদ্ধ। এরপর তাকে বাঁচিয়ে রাখায় শুরু হয় দৌঁড়-ঝাঁপ। প্রায় ৪ ঘন্টা বেঁচে থাকার পর আবারো নিথর হয়ে যায় দেহ। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মোবারকপুর শ্মশানে উত্সুক জনতার ঢল নামে।
মোবারকপুর গ্রামের রঞ্জিত রায় ও গণেশ রায় জানান, তাদের বাবা সূর্যকান্ত রায় (৬৮) তিন মাস আগে হূদরোগে আক্রান্ত হন। সেই থেকে শরীরের একপাশে পক্ষাঘাত দেখা দেয়ায় স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না তিনি। বৃহস্পতিবার বিকালে পিসিমা নগরবাসী হালদারের মৃত্যুতে বাবা আরো বিমর্ষ হয়ে পড়েন। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মোবারকপুর শ্মশানে পিসিমার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর বাবা আবারো হূদরোগে আক্রান্ত হন। একপর্যায়ে বিকাল ৫টার দিকে গ্রাম ডাক্তার হাজরা পদ বিশ্বাস তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তারা আরো জানান, আত্মীয়-স্বজনদের খবর দেয়ার পর ধর্মীয় রীতিনীতি পালনশেষে রাত সাড়ে সাতটার দিকে বাবার মৃতদেহ মোবারকপুর শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত আটটার দিকে মৃতদেহ স্নান করানোর পর চিতায় তোলার মুহূর্তে মরদেহে প্রাণের স্পন্দন অনুভব করেন ঐ গ্রামের প্রভাস হালদার ও বিশ্বনাথ হালদার। একপর্যায়ে ডাকা হয় গ্রাম ডাক্তার হাজরা পদ বিশ্বাসকে। তিনি নাড়ির গতি পেয়ে বাবার শরীরে স্যালাইন দেন। এরপর ডাকা হয় তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক ডাঃ ফরহাদ হোসেনকে। এলাকার কয়েক শ’ নারী, পুরুষ ও শিশু শ্মশানে জড়ো হয়। রাত ৯টার দিকে চিকিত্সক ফরহাদ হোসেন এসে তাকে (সূর্যকান্ত) মৃত বলে ঘোষণা করেন। রাত ১২টার দিকে তাদের বাবার মরদেহ সত্কার করা হয়।
রাইগারমোটিভস-এর কারণে অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির দেহে তাপ অনুভূত হয়। যা চার ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে নেমে আসে।
